সাহসী নারীদের সংগ্রামী জীবন নিয়ে লেখা দুটি সাহিত্যকর্ম অষ্টাদশী এবং সূর্য দীঘল বাড়ী নিয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গায় ব্র্যাক ব্যাংক রিডিং ক্যাফের সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্র্যাক ব্যাংক চট্টগ্রাম রিডিং ক্যাফের সদস্যরা হরিশংকর জলদাসের গল্পগ্রন্থ অষ্টাদশী এবং চুয়াডাঙ্গা রিডিং ক্যাফের সদস্যরা আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ী নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় সাহিত্যকর্মেই দেশের নারীদের সংগ্রামী জীবন এবং সমাজের নানা বৈষম্যের মুখোমুখি হওয়ার গল্প উঠে এসেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে আয়োজিত অষ্টাদশী নিয়ে এক আলোচনায় লেখক হরিশংকর জলদাস নিজে উপস্থিত ছিলেন। গল্পগুলোতে নিম্নবর্গের মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি নারীর প্রতি সমাজের পক্ষপাত, নিপীড়ন এবং প্রতারণার বিষয়গুলো চিত্রায়িত হয়েছে। এছাড়াও অষ্টাদশীতে আরো উঠে এসেছে এদেশের নারীদের নিয়ে বহুকাল থেকে চলে আসা বিদ্রুপ, পক্ষপাতদুষ্টতা, একতরফা নিয়মকানুন এবং প্রিয়জন কর্তৃক বিশ্বাসঘাতকতার মতো চিরায়ত বিষয়গুলো।
এ সময় লেখক তার বইয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে পাঠকদের প্রশ্নের উত্তর দেন, যা আলোচনাকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
অন্যদিকে, ১৫ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত সূর্য দীঘল বাড়ী নিয়ে আলোচনায় পাঠকরা জয়গুন চরিত্রের সাহসিকতায় মুগ্ধ হন। এই উপন্যাসে জয়গুনের সংগ্রাম, সামাজিক ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে তার লড়াই ফুটে উঠেছে। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের সময় গ্রামের নারীদের জীবনের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে উপন্যাসটি বাংলাদেশের সাহিত্য ভাণ্ডারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে গণ্য হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ব্র্যাক ব্যাংকে আমরা বিশ্বাস করি, দলগতভাবে বই পড়া আমাদের সহকর্মীদের জ্ঞান বৃদ্ধি এবং চিন্তার প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি সম্পর্কেরও উন্নয়ন ঘটায়। সাহিত্য ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে উন্নতির সুযোগ এনে দেয়।
পরবর্তী সাহিত্য আড্ডায় চট্টগ্রাম রিডিং ক্যাফের সদস্যরা শওকত ওসমানের ক্রীতদাসের হাসি এবং চুয়াডাঙ্গা রিডিং ক্যাফের সদস্যরা মঈনুল আহসান সাবেরের কবেজ লেঠেল নিয়ে আলোচনা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি দেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি ব্যাংক। ১৮৭টি শাখা, ৫৩টি উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৫৬টি এসএমই ইউনিট অফিস এবং ৮ হাজারেরও বেশি কর্মীর বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্যাংকটি দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।