রাজধানীর গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে কিছু গণমাধ্যমে একপাক্ষিক, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার এক প্রতিবাদপত্রে গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এসব দাবি করেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে থাকা একটি সংঘবদ্ধ মহল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এর আগেও ওই মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক জানান, এর আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের প্রতিবাদ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি গণমাধ্যমে বিদ্যালয় ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রধান শিক্ষকের দাবি, ওই প্রতিবেদনে ঘটনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করা হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে কয়েকজন সংবাদকর্মী সেখানে আসেন। পরে কিছু ব্যক্তির দেওয়া তথ্য ও কথিত বেনামি নথির ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের ক্ষেত্রে কয়েকজন শিক্ষক ও তাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।
প্রতিবাদপত্রে গাইড বা সহায়ক বই কেনার বিষয়ে নিজের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহায়ক বই ব্যবহার করে থাকে। তবে গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সহায়ক বই কেনার ক্ষেত্রে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।
বিশেষ করে ফুল কুড়ি প্রকাশনীর একটি বইকে গাইড হিসেবে উপস্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের সেটি কিনতে বাধ্য করার যে অভিযোগ সংবাদে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রকাশিত অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন উপকমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবাদপত্রে বিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী ছিল বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটিকে অসত্য দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।
তার দাবি, ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সময়ই গেণ্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী ছিল না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সংরক্ষিত নথিপত্রে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও দাবি করেন, টিফিনের সময় কিংবা অন্য কোনো সময়ে তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হয় বলে জানান তিনি। তবে এসব নিয়মিত আলোচনা একজন শিক্ষক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক।
প্রতিবাদপত্রে কয়েকজন শিক্ষককে ঘিরে নানা অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবাদপত্রে নেই।
প্রতিবাদপত্রে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ঘটনাও তুলে ধরেছেন প্রধান শিক্ষক।
তার দাবি, ওই দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষে সরকারি ঘোষণায় বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত না হয়ে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদের নিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া আয়োজন করা হয়েছিল বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবাদপত্রে কয়েকজন শিক্ষকের বক্তব্যের বিষয়ে আলাদাভাবে আপত্তি জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ৩১ ডিসেম্বর শিক্ষকদের নোটিশ দিয়ে বিদ্যালয়ে ডাকার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়তে বাধ্য করা, পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো একাধিক অভিযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি বা প্রমাণ রয়েছে, তা প্রতিবাদপত্রে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক বলেছেন, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ ছাড়া সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদের বক্তব্যও অস্বীকার করেছেন তিনি। ৩১ ডিসেম্বর বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক।
প্রতিবাদপত্রের শেষাংশে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়কে ঘিরে প্রকাশিত পুরো সংবাদটি একপাক্ষিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর। তার দাবি, বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই সংঘবদ্ধভাবে এসব তথ্য গণমাধ্যমে দেওয়া হয়েছে।
তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশে ভূমিকা রেখেছেন বলে তিনি মনে করেন, তাদের শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা তিনি চান না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
