× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জ্বালানি খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে টিআইবি’র সাত দফা সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ মে ২০২২, ২২:৩৯ পিএম

ফাইল ছবি

জ্বালানি খাতের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণে টিআইবির পক্ষ থেকে সাত দফা সুপারিশ প্রদান করা হয়।  বাংলাদেশে কয়লা ও এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্প: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসুপারিশ প্রদান করে সংস্থাটি।


টিআইবি’র সাত দফা সুপারিশ 

১। জ্বালানি খাতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক উপায়ে প্রস্তাবিত ইন্ট্রিগ্রেটেড এনার্জি এন্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যান (আইইপিএমপি) প্রণয়ন করতে হবে এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপসহ প্রস্তাবিত আইইপিএমপি’তে কৌশলগতভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

২। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিল করতে হবে এবং ২০২২ সালের পরে নতুন কোনো প্রকার জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন না করার ঘোষণা দিতে হবে; 

৩। জ্বালানি প্রকল্প অনুমোদন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন, ঋণের শর্ত নির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এসংক্রান্ত সকল নথি প্রকাশ করতে হবে।

৪। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধ এবং জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চলমান ঝুঁকিপূর্ণ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থগিত করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ কৌশলগত, সামাজিক ও পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পাদন সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।

৫। জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অনুমিত অবদান (আইএনডিসি) এর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পরিকল্পনাধীন কয়লা ও এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে সোলারসহ নাবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

৬। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও বিতরণ এবং ক্রয় সংক্রান্ত কার্যক্রমে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে হবে। 

৭। প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত দুর্নীতির তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিগত দশকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও, এখাতে উদ্বেগজনকভাবে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। আইনি দুর্বলতা, নীতিকাঠামোর জিম্মিদশা এবং স্বচ্ছতার ঘাটতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারে রাষ্ট্র ও জনগণের ক্ষতি হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও এবিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের নীতিকাঠামো বিশ্লেষণসহ সুশাসনের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিত করার লক্ষ্যে গুণগত এই গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য গবেষণার উদ্দেশ্যের সাথে সংগতি রেখে বরিশাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাঁশখালী এস এস বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র এই ৩টি প্রকল্প বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। 

গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রণয়ন ও উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন বিষয়ক সিনিয়র রির্সাচ ফেলো মো. মাহ্ফুজুল হক এবং একই বিভাগের রির্সাচ ফেলো মো. নেওয়াজুল মওলা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দেশের জ্বালানি খাত বিকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের ওপর অতি নির্ভরশীলতায়  এখাতের নীতিকাঠামো অনেকাংশেই জিম্মি (পলিসি ক্যাপচার) হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, এখাতে উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের অধিক লাভের আশায় জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীলতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি বিদ্যমান। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি ব্যবহার না করে বিশেষ বিধানের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রভাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করে  প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হয়েছে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.