× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভোলা বিদ্যুৎহীন জীবন কাটাচ্ছে চরের কয়েক হাজার মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি

৩০ জুলাই ২০২২, ১৬:১০ পিএম

ভোলার মেঘনার তলদেশে মাঝের চরে সাবমেরিন ক্যাবেল সংযোগ ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে জীবন কাটাচ্ছে চরের কয়েক হাজার মানুষ। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মদনপুর ও কাচিয়া অংশের সাড়ে সাতশ  গ্রাহক। বিদ্যুৎতের সংযোগ নিয়ে চরে নতুন নতুন ব্যবসায়িরা ও গ্রাহকরা পড়ছে বিপাকে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ এর সমস্যা নিরসনের দাবি করেন চরে বসবাস করা হাজারো মানুষ।


আর ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ভোলার মেঘনা নদীর নৌ-রুটে দৈনিক প্রায় ৪-৫ শত জাহাজ আসা যাওয়া করে। কোন এক জাহাজ নোঙ্গর করার সময় হয়তো মদনপুর সাবমেরিন ক্যাবেলটি কেটে যেতে পারে। তার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সাবমেরিন কেবল সংস্কার, কিংবা বিকল্পভাবে কাচিয়া-মদনপুরের বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের  বিদ্যুৎ সংযোগ চালু ও দ্রুত   সমস্যার সমাধান হবে আশা করা যাচ্ছে।
ভোলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন  মেঘনা- তেঁতুলিয়া নদী বিষ্টিত ছোট বড় অসংখ্যা চর রয়েছে। এই সব চরে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌ-পথ। ভৌগলিক কারনে বিচ্ছিন্ন এই সব চরে  কয়েক যুগেও পৌছায়নি বিদ্যুৎ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়ার লক্ষ্যে গত বছর ভোলার কাচিয়া মাঝের চর, মদনপুর, মেদুয়া, চর ভবানীপুর, চর মোজাম্মেল, চর জহির উদ্দিন, মলংচরা, সোনাপুর, চর কুকরি-মুকরি, মুজিবনগর ১০ চরে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে  কয়েক হাজার মানুষবে বিদ্যুৎতের আলোয় আলোকিত করেছে।
দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বিদ্যুৎ পৌছে  দিয়েছে  ভোলা জেলা পল্লী  বিদ্যুৎ সমিতি।বিদ্যুতায়ানের ফলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জীনবমানেরও উন্নয়ন ঘটতে শুরু করেছে।

ঠিক তখনই ভোলার কাচিয়া মাঝের চর ও তার পাশের মদনপুর চরে  নদীর তলদেশে সাবমেরিন কেব্লে ছিড়ে যাওয়ায় জুন-জুলাই দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে চরের  সাড়ে সাত শতাধিক গ্রাহক বিপাকে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে  চরের কয়েক শতাধিক পরিবার। এতে জনজীবন যেমন বিপন্ন হয়ে পরেছে ঠিক তেমনি ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা ও ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা বানিজ্যে ব্যপক ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে মদনপুর চরবাসীর আয়ের বড় একটি অংশ হলো মহিষের দুধ থেকে দধি বসানো। কিন্তু টানা  দুইমাস ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় এসব ব্যাবসায়ীরা অর্থনৈতিক ভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।বিপাকে পরেছে কোমল পানিয় বিক্রেতাগন।মোমবাতির আলোতে পড়তে হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের।এতে পড়াশোনারও ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে।
মদনপুর বাজারের দধি  ব্যাবসায়ী তছির জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে মহিষের দুধ ক্রয় করে তা দিয়ে ফ্রিজে রেখে দধি তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে আসছিলো। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের সেই ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

এখন আর তারা বাজারে দধি বিক্রয় করছেন না আগের মতো। তাই এলাকায় দধি ও ঠান্ডা কোমল পানিয় বিক্রি করে এলাকাবাসীর চাহিদা মেটাতে পারছেন না।  ফলে বড় ধরনের  লোকসানের মধ্যে পড়েছে এইসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্কুল পড়ুয়া আরিফ, সজিব জানায়, স্কুলে শিক্ষকগন পাঠদান শেষে ছাত্র ছাত্রীদেরকে বলেন, পরের দিনের জন্য বাড়ি থেকে পড়া ও লিখা তৈরী করে স্কুলে যেতে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হয়, ফ্যান না চলায় অস্থির গরম সহ্য করতে হয়, তাই ভালো মতো পড়াশুনা করা অসম্ভব হয়ে পরেছে, কিন্তু সামনে পরিক্ষার প্রস্তুতি।

মদনপুরের চরাঞ্চলের চেয়ারম্যান বাজার মুদি ব্যাবসায়ী সিরাজ, মোঃ আবদুল হামিদ, মোসলেউদ্দিন সহ আরও অনেকই জানান, গত নভেম্বররে চরে বিদ্যুৎ আশার পরে  এনজিও থেকে কিস্তি নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজিয়েছি। দোকানে ফ্রিজ,টেলিভিশন উঠাইছি। এখন গত দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হইছে। ফ্রিজের সকল আইসক্রিম নষ্ট হয়ে গেছে। দোকানে টেলিভিশন চালাইতে পারিনা। তাই কাস্টমারও কম আইয়ে। আমাদের অর্থিক ভাবে অনে লস হইছে।এখন সরকার আমাদের দ্রুত বিদ্যুৎতের ব্যবস্থা করে দিলে আমাদের ব্যবসা করা সহজ হইবো।
মদনপুর চরের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ থাকায় আমাদের এই চর ইউনিয়নে ফটোকপি-কম্পিউটারের দোকান দিছিলো। অনেকে ব্যবসায়ী রাইস মিল, সমিল, ফিড মিল, বৈদ্যুতিক সেচপাম্প বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় সবারই অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

বিশেষ করে ইউনিয়নের জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে ফটোকপির কোন কাজ হইলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে মূল ভুখন্ডে আশা লাগছে। বিদ্যুৎ থাকলে আর এই সমস্যা হতো না বলে তিনি জানান।
ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, মেঘনার বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন  চরে  সাবমেরিন কেব্ললাইন  টেনে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর সুফল পাচ্ছে সকল চরবাসী। তবে প্রথম থেকেই ভোলার মদনপুর এর লাইন নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিলো। যা পল্লী  বিদ্যুৎ সমিতি সঠিক ভাবে নজর দেয়নি। এর ফলে দেখা যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্ন মানের কেব্ল ব্যাবহার করছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।তাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেখা উচিত কি কারনে মদনপুর চর ও মাঝের চরের সাবমেরিন লাইন ফল্ট করলো। এটি কি ঠিকাদার এর দোষ নাকি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উদাসীনতার ফল।

কাচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম নকীব জানান, কাচিয়া মাঝের চর ও পাশে মদনপুর ইউনিয়নের  চারপাশে নদী, উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। সেখানে গত বছরের নভেম্বরে  পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ দিলে, চরাঞ্চল আলোকিত হয়ে ওঠে। চরের মানুষ শহরের মতো টিভি দেখতে পাচ্ছিল। শিশুরা কুপির বদলে বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় পড়তে শুরু করেছিল।চরে জীবনমান দ্রুত পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল বিদ্যুৎতের কল্যানে। এখন গত দুই মাস ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরের মানুষদের দুর্ভোগ নেমে আশে।

অনেক দিন বিদ্যুৎ বিছিন্ন এই চরের মানুষ। বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা ও ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে। তাই সরকারের কাছে দাবি চরের মানুষকে অন্ধকারে না রেখে দ্রুত বিদ্যুৎতের আলোয় আলোকিত করার দাবি জানাই। ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.