× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভেষজগুন সমৃদ্ধ ভৃঙ্গরাজের হলুদ আভায় থমকে যায় পথচারী!

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

০১ আগস্ট ২০২২, ১৬:০৭ পিএম । আপডেটঃ ০১ আগস্ট ২০২২, ১৬:০৮ পিএম

পথের ধারে কিংবা বড় এপার্টমেন্টের আঙিনা জুড়ে তার বসবাস। চকচকে সবুজ পাতার আড়ালে উঁকি দেওয়া ছোট্ট হলুদ ফুল। গড়ন অনেকটা সূর্যমুখীর মতো। বলছিলাম ছোট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ ভৃঙ্গরাজের কথা। চেনা ফুল ভৃঙ্গরাজের আছে অচেনা অনেক নাম। প্রচলিতভাবে একে ভৃঙ্গরাজ নামে ডাকলেও ইংরেজীতেও একে ঠৎরহমধৎধল ও হিন্দিতে পীলা ভাঙ্গড়া নামে ডাকে। তবে এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো

ভৃঙ্গরাজ স্থানভেদে কখনও ভুলুণ্ঠিত হয়। এটির ফুল হলুদ হয়। ভৃঙ্গরাজের আরও তিনটি প্রজাতি লক্ষ্য করা যায়। একটির ফুল নীল, একটির সাদা এবং অন্যটির ডাঁটা একটু লালচে, ৩.৪ সে.মি.-৯.৫ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ডাঁটা রসালো, নরম, সূক্ষ্ম লোমশ ও দ্রুত বাড়ে। বর্ষাকালে হলুদ রংয়ের ফুল হয় এবং শরৎকালে ফল হয়। এ ডাঁটার প্রতি গিরা থেকে দুটি করে বিপরীতমূখী পাতা বের হয়। পাতা ৪.০-৮.০ সে.মি. লম্বা এবং ১.২-২.০ সে.মি. পর্যন্ত চওড়া হয়। পাতার কিনারা হালকা খাঁজকাটা।

পাতার আকৃতি লম্বাটে বর্ষাকৃতি, অমষসৃণ ও খসখসে। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এ তৃণটি দেখা যায়। তবে বাংলাদেশ ছাড়াও উদ্ভিদটি আসাম, মাদ্রাজ (তামিলনাড়ু), মালাবার প্রভৃতি অঞ্চলে এটি বেশি জন্মে। এটি ভিজা বা আর্র্দ্র জায়গা উদ্ভিদটির জন্য বিশেষ উপযুক্ত স্থান। ভৃঙ্গরাজের চাষ করা খুবই সহজ। এর অঙ্গজ জন্যই সহজ। তাই শিকড়সহ বা শিকড় ছাড়া লতা লাগালেই নতুন গাছ জন্মে। তবে এটির যত্ন্ন নিতে হয়। এই ভেষজটি কটুক্তি ও হালকা কষস্বাদযুক্ত করে। ফলে স্বাভাবিকভাবে এটি পিত্ত ও শ্লেষ্মা, বিকার, কফের উপরভাল কাজ করে। 

উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ঈশ^রপুর গ্রামের মরহুম সোহেল মেম্বারের বাড়ির পাশর্^বর্তী স্থানের দেকা মেলে বিশাল একটি ভৃঙ্গরাজ বাগানের। প্রাকৃতিকভাবে জন্মা নেয়া এই বাগানের কেউ কোন যত্নআত্মি নেয় না। তবে হলুদ ফুল ফুটলে বাগানের ওই রাস্তা দিয়ে চলাফেরার সময় মাঝে মধ্যে কিছু কিছু প্রকৃতি প্রেমি পথচারী ভৃঙ্গরাজের হলুদ অভায় থেমে যান। আর নিজের সাথে থাকা স্মার্ট ফোনে তুলে নেন ছবি। কখনো কখনো আবার কিছু হলুদ ফুল তুলে নিয়ে যান বাড়িরর জন্য।

কথা হয় ঈশ^রপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ মুদি দোকানী ছানাউল্লাহ ছানার সাথে। তিনি বলেন, আমি এই গাছ বা ফুলের নাম জানিনা। তবে এমনিতেই জম্ম নিয়েছে এই হলুদ ফুলের গাছগুলো। সব সময় দেখি ওই জায়গায় হলুদ ফুল ফুটে থাকে। কেউ এই বাগানের যত্ন নেয়না। মাঝে মধ্যে দেখি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে কিছ মানুষ ছবি তুলে ও ফুল ছিড়ে নিয়ে যায়। একই কথা বলে ওই এলাকার আরেক মুদি দোকানী সুমন ফকির নামের এক তরুণ।

পথচারী নুরুল ইসলাম বলেন, আমি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। আর মাঝে মধ্যে যখন দেখি ভৃঙ্গরাজের সব ফুল ফুটে আছে তথন নিজের স্মার্ট ফোনে আলোকটিত্র ধারণ করে রাখি। এর সৌন্দর্য্য নিজের উপভোগ করি এবং এফবিতে শেয়ার করে বন্ধুদের মাঝে ছড়িয়ে দেই। এই গাছ ও ফুলের নাম কিভাবে জানালেন?

এমন এক প্রশ্ন জাবাবে তিনি বলেন, ছবি তুলে নেটে স্ক্যান করে এর নাম ও গুনাগুন সম্পর্কে জেনেছি। ভেষজগুন সংক্রান্ত বই পুস্তুক থেকে জানা যায়, সূর্যোদয়ের পর অনেকের মাথায় যন্ত্রণা হয় বা আধকপালে ব্যথা হয়, সেক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতার রস মাথায় মাখলে উপশম হয়। মাথার চুল ওঠায় এই পাতার রস দুপুরে মাথায় লাগালে অথবা রস দিয়ে তেল পাক করে ব্যবহার করলেও চুল পড়া বন্ধ হয়। নারীরা শে^ত প্রদরের শিকার হলে প্রায়ই মাথার চুল উঠে যায়, সেক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দিনে দুইবার মাথা ধুলে ৩/৪ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়। চোখ উঠে পুঁজ জমলে ২০/২৫ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজের রস পানিতে মিশিয়ে এ পানি দিয়ে চোখ ধুলে এটি সেরে যাবে। পাইরিয়া হলে ভৃঙ্গরাজের পাতার গুঁড়া করে মাজনের মত ২/৪ মিনিট ব্যবহার করলে দোষটি সেরে যায়।

এছাড়াও এতে মাড়ি শক্ত হয় এবং মাড়িতে কোন ঘা থাকলে পাতার ক্বাথ দিয়ে কয়েকটি দিন মুখ ধুলে সেরে যায়। গুঁড়া কৃমির উপদ্রব হলে এর পাতার রস পূর্ণবয়স্কদের জন্য এক চা চামচ এক কাপ পানিতে মিশিয়ে খেলে উপদ্রব কমে যায়। অজীর্ণ মল, তার সঙ্গে আমও আছে, এরকম ক্ষেত্রে ২৫/৩০ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজ পাতার রস প্রতিদিন আধা কাপ ছাগলের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ভালো হয়। ভৃঙ্গরাজ পাতার রস মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়।

রক্তে শ্বেত কনিকা বেড়ে গেলে ২৫/৩০ ফোঁটা এই পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে স্বাভাবিক হয়ে আসে। দাঁতে ভৃঙ্গরাজ রসের প্রলেপ দিলেও বেশ উপকার হয়।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.