× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সমাজ সেবার আর্থিক সহায়তার টাকা আসে মৃত‌্যুর পর

রংপুর ব্যুরো

০১ আগস্ট ২০২২, ১৮:০৩ পিএম । আপডেটঃ ০১ আগস্ট ২০২২, ১৮:০৩ পিএম

সরকার হতদরিদ্র মানুষদের ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগসহ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে তাদের চিকিৎসার জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তর কর্তৃক  অন লাইনে আবেদনের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা  প্রদান করলেও। সেই সাহায্য'র অনেক টাকা আসে রোগীর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরে।


এসব হতদরিদ্র রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সময় মতো আর্থিক সহায়তার টাকা না পাওয়ায় রংপুর অঞ্চলে অর্থ অভাবে চিকিৎসাহীনতায় প্রতি মাসে মারা যাচ্ছে কয়েক শত রোগী। এছাড়াও রংপুর জেলা সমাজ সেবা কর্তৃপক্ষ,এসব মৃত্যুবরণ কৃত অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবার বরাদ্দকৃত অর্থ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে তুলে না দিয়ে সেই অনুদানের টাকা কোথায় ব্যায় করেন তা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে জনমনে ।

 রংপুর সদর উপজেলা পাগলাপীর দেবীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ এর মা জোবেদা বেগম লিভার সিরোসিস (ক্যানসার)রোগে আক্রান্ত হয় ২০২০সালে। মজিদ বলেন, আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য সমাজ সেবার অনলাইন আবেদন করি ২০২১সালের জানুয়ারি মাসে। সেই মা আমার অর্থ অভাবে চিকিৎসাহীনতায় মারা যান ওই বছরের আগস্ট মাসে। এর মধ্যে অনেকবার যোগাযোগ করেছি জেলা সমাজসেবা অফিসে। তারা বলেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার দরকার নাই,চেক হলে আমরাই যোগাযোগ করবো। এদিকে আমার মায়ের মৃত্যুর একবছর অতিবাহিত হওয়ার পর সমাজসেবা অফিস থেকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন মা আমার বেঁচে আছেন,না মারা গেছেন, আমি বলেছি আমার মায়ের কবরে ঘাস গজিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর কথা জানার পর থেকে তারা বলেন, তাহলে তো আর টাকা পাবেন না। আমার প্রয়াত মায়ের চিকিৎসার জন্য অনুদানের বরাদ্দকৃত টাকা, কেন দিবেন তা জানতে চাইলে তারা বলেন, মৃত ব্যক্তির টাকা দেয়া হয়না এ টাকা ফেরত যাবে।

নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশরাফ আনছারি  প্রতিবেদককে বলেন,আমার মে আনজুমান আরা বেগম গত ২০২০ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়, আমি সমাজসেবায় আবেদন করি ২১সালে, আজ অব্দি কোন খবর আসেনি, এরই মধ্যে আমার মে মারা গেছেন। রংপুর সমাজ সেবা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ বলেন মৃত ব্যক্তির টাকা দেয়া হয় না।
 
এছাড়াও ক্যানসারে আক্রান্ত রংপুর মহানগরের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিন মজুর সাদেকুল ইসলামের বড়ভাই নাজমুল হক ৫৫ ক্যানসার আক্রান্ত হয় ২১ সালে। সাদেকুল ইসলাম প্রতিবেদক কে বলেন আমার ভাইকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রমেক চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করলেও অর্থ অভাবে ভাইকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে পারছিনা। যদিও কিছু টাকা স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিরা সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু সমাজ সেবার অনলাইনে আবেদনের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোন খবর আসেনি। তিনি আরো বলেন, বড়ভাই তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী,অন্যের জমিতে চালা ঘর করে পরিবার পরিজন নিয়ে কোন রকমে বসবাস করে আসছে ‌। হঠাৎ সে ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এবং তার চিকিৎসার ব্যায় মেটাতে আজ তার পরিবার পথে বসেছে, সরকার যদি ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তারাতাড়ি আর্থিক সহায়তার টাকাটা দিতে পারতেন তাহলে আমি ভাইকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারতাম। 

প্রতিবছর দেশে প্রায় ৩ লক্ষ লোক এ সমস্ত রোগে মৃত্যুবরণ করে এবং ৩ লক্ষাধিক লোক ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হার্ট ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থের অভাবে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা যাতে করে ধুঁকে ধুঁকে  মারা না যায়, এবং তাদের পরিবার চিকিৎসার ব্যায় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে না পড়ে। এজন্য সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক এ সকল অসহায় ক্যান্সার, কিডনী এবং লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত গরীব রোগীদের কিস্তি স্বরূপ দ্রুত এককালীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করার সরকারি নির্দেশনা দেয়া থাকলেও
কেন রংপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কার্যালয়ে প্রতিমাসে বিভিন্ন রোগের ক্যাটাগরিতে আবেদন আসে ৫ শত'র উদ্ধে , আমরা এসব আবেদন ফাইল পাঠাই সিভিল সার্জন অফিসে। 

তারা এসব আবেদন অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা জুরি বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে আমাদের কার্যালয়ে পাঠায় এরপর আমরা জেলা প্রশাসক স্যারের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার চেক ইস্যু করি। এসময়ের মধ্যে প্রতিমাসে ৩০থেকে ৪০জন রোগীর মৃত্যু হয়।এমাসেও ২৫ রোগী মারা গেছেন। তিনি আরো বলেন, রংপুর অঞ্চলে বরাদ্দ অনেক কম থাকায় আমরা মারা যাওয়া ব্যক্তির চেয়ে জীবিত রোগীদের বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। এজন্য ওই সকল মৃত ব্যক্তির বরাদ্দকৃত টাকা না দিয়ে জীবিত রোগীদের চিকিৎসার সেই টাকা পরে দিয়ে দেই। তবে সব রোগীদের ক্ষেত্রে নয় কিছু কিছু অসহায় মৃত ব্যক্তির নমিনিদের হাতেও তাদের অনুদানের টাকা দিয়ে থাকি। 

এদিকে সমাজ সেবা কর্মকর্তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সিভিল সার্জন অফিসের প্রক্রিয়াগত কারনে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিক সময়ে না পাওয়ায় প্রতিমাসে ৩০থেকে ৪০জনের অধিক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া হতদরিদ্র মানুষ মারা যায় সে বিষয়ে সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডাক্তার শামীম আহমেদ বলেন, প্রতিমাসে কমপক্ষে আবেদন আসে ৫ শত থেকে ৬ শ পর্যন্ত । আমরা এগুলোকে অভিজ্ঞ চার সদস্য ডাক্তার দ্বারা জুরি বোর্ডের মাধ্যমে চার ধরনের ক্যাটাগরি তৈরি করি, এ-ক্যাটাগরি,বি-ক্যাটাগরি,সি-ক্যাটাগরি ও ডি-ক্যাটাগরি। এসকল আবেদনের ক্ষেত্রেও অনেক ভুল আবেদন থাকে সেগুলো যাচাই-বাছাই করতেই একটু সময়ের ব্যাপার। তবে আমাদের অফিসে তেমন সময় অতিবাহিত হয়না। আর অর্থ বরাদ্দ দেয় সমাজসেবা,সময় অতিবাহিত হলে তাদের হয় আমাদের নয়।

এবিষয়ে স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক মোছাঃ জিলুফা সুলতানা বলেছেন, একজন হতদরিদ্র মুমুর্ষ রোগীর চিকিৎসার সরকার যে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে তা জনগণের তেমন কাজেই না লাগে তাহলে তো দুঃখ জনক বিষয়। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। এখন থেকে কিভাবে এ অর্থ  সহজীকরণ করা যায় তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.