× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

টেকনাফে পাহাড়ে দূবৃর্ত্ত চক্রের অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যে অতিষ্ট মানুষ

সাদ্দাম হোসাইন

০২ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৩ পিএম । আপডেটঃ ০২ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৪ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পাহাড়ে অবস্থানরত দূবৃর্ত্ত চক্রের অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত কৃষি নির্ভর ও অসহায় দিন-মজুর পরিবার সমুহ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধীদের সাথে স্থানীয় কিছু দূবৃর্ত্ত চক্রের যোগ-সাজশ থাকায় পাহাড় কেন্দ্রিক অপরাধীরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,গত ৩১জুলাই সকালে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নোয়াখালী পাড়া ইলিয়াছ কোবরা বাজারের মৃত নুরুল হকের পুত্র ছৈয়দ আহমদ (৬০) এবং মৃত শামসু মিয়ার পুত্র মোঃ ইলিয়াছ (৩৫) মিলে আরো ২জন রোহিঙ্গা শ্রমিকসহ ৪জন মিলে পাশর্^বর্তী শণখোলায় কাজ করতে যায়। এসময় পাহাড়ে থাকা স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্ত চক্র তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিকালের দিকে একটি মুঠোফোন নাম্বার থেকে অপহৃতদের মুক্তিপণের জন্য ৭লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়। অপহৃত ছৈয়দ আহমদের ২য় স্ত্রীর ছেলে এবং ইলিয়াছের স্ত্রীর নিকট এই মুক্তিপণ দাবী করা হয় বলে স্থানীয় সুত্রের দাবী। 

এই ব্যাপারে অপহৃত ছৈয়দ আহমদের ১ম স্ত্রীর সন্তান আব্দুল মাবুদের নিকট জানতে চাইলে বলেন, আমরা একেবারে গরীব তাই কি করব বুঝতে পারছিনা। তবে সৎ ভাইয়েরা কি করছে তা জানিনা। অপর অপহৃত ইলিয়াছের স্ত্রী মনোয়ারার সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা যায়নি। তবে রাজারছড়া এলাকার কারো মাধ্যমে কথা বলে অপহৃত স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সুত্রের দাবী। গত ৩০জুলাই নোয়াখালী পাড়ার কোনাপাড়ার জনৈক ইসমাঈল এবং শাহপরীর দ্বীপ থেকে আসা মৃত ইলিয়াছের পুত্রকে অপহরণ করে। পরে তাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। গত এক সপ্তাহ আগে কক্সবাজারে বসবাসরত কয়েকজন যুবক স্থানীয় মেম্বারের নিকট ভোটার হওয়ার জন্য স্বাক্ষর নিতে গ্রামে আসে। পাশর্^বর্তী পাহাড়ে হাতি এলে সকলের সাথে তারাও দেখতে যায়। সেখান হতে তাদের অপহরণ করা হয়। ৪দিন পর মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আবার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত অনেকে জীবন রক্ষার ভয়ে পাহাড়ে অবস্থানরত অপরাধীদের রসদ সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন,বাহারছড়া ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা অবহিত হওয়ার পর প্রশাসনকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ দিতে দিতে ভিকটিমের পরিবার অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। 

এই বিষয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ সংবাদ কর্মীদের জানান, এই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়। আমরা পদক্ষেপ নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগে মুক্তিপণ দিয়ে নিয়ে আসার কারণে এসব অপরাধীদের ব্যাপারে আর আগানো যায়না। 

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে এই জাতীয় ঘটনা ঘটে আসছে। ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান,গত মাসে দৈংগ্যাকাটা এলাকায় একটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। ভিকটিমের পরিবার যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃতকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। 

এদিকে গত ২৬জুলাই বিকালে হ্নীলা রঙ্গিখালী এলাকা হতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়েছে। অপহরণকারী চক্র মুক্তিপণ দাবী করলেও পিতা টাকা যোগাড় করতে না পারায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে। 

এই বিষয়ে হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,বিভিন্ন কারণে অপহরণের ঘটনা হয়ে আসছে। গত এক মাসে আলীখালী, রঙ্গিখালী, মৌলভী বাজার ও মরিচ্যাঘোনা এলাকায় ৫/৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তা আইন-শৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতনতার মাধ্যমে সমন্বয় করে এসব অপরাধীদের দমন করা সম্ভব বলে মনে করি। 

টেকনাফ সদরের নাইট্যং পাড়ার ভেতরে পাহাড়ের পাদদেশ, জাহালিয়া পাড়া, রাজারছড়া ও মিঠা পানির ছড়ার বেশ কয়েকজন লোক অপহরণের শিকার হয়েছিল। টেকনাফ সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান রশিদ মেম্বার বলেন, ঈদুল আযহার সময় কয়েকজনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। 

স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, বিভিন্ন স্থানে মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান, জমি-জমা এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকে। মূলত পাহাড়ের ভেতরে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী স্বশস্ত্র সংগঠনের  সদস্যদের অবস্থান। এখন ক্যাম্প কেন্দ্রিক আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহের বিপরীতে গভীর পাহাড়ে স্বশস্ত্র অবস্থান নেয়। পাহাড়ের পাদদেশের কিছু মানুষ নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরুপায় হয়ে এসব গ্রুপকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে আসছে। আবার স্থানীয় অনেক ফেরারী আসামী তাদের সাথে যোগ দিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ করে বেড়াচ্ছে বলে ধারণা। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.