× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় বাবাকে অপহরণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৩:২৮ এএম

সম্পত্তি লিখে না দেয়ায় ফিল্মিস্টাইলে বৃদ্ধবাবাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে সন্তানদের বিরুদ্ধে। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৫৫)। তিনি প্রবাসী বলে জানাগেছে। তাকে উদ্ধারের জন্য আদালতে মালা করেছেন নিখোঁজ আবুল কালামের বন্ধু শাহাব উদ্দিন। মামলা নং ১৭/২২। মামলায় আসামী করা হয়েছে নিখোঁজের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন আহম্মদ, মেয়ে ফাহিমা আক্তার ও ফারহানা আক্তারকে। একই সঙ্গে নিখোঁজের শ্যালক জাহাঙ্গীর আলমকেও আসামী করা হয়েছে
 
চট্টগ্রাম জজ কোটের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটির (পিপি) ও বাদী পক্ষের কৌশলী এডভোকেট মোহাম্মদ ফৌজুল আমিন চৌধুরী  এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাদীর অভিযোগের বরাত দিয়ে সাবেক এই পিপি বলেন, অসুস্থ্য বাবার সম্পত্তি কব্জায় নিতে ব্যর্থ হয়ে পরস্পর যোগসাজসে তার দুই কন্যা, এক ছেলে ও শ্যালক মিলে প্রবাস ফেরা আবুল কালামকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ নিখোঁজকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজের মোবাইলের সিডিআর, সংবাদদাতার সঙ্গে নিখোঁজের সম্পর্কের সময়কাল এবং অতীত অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আদালতকে অবহিত করার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।

নিখোঁজ আবুল কালাম আজাদ চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া ধানাধীন সৈয়দশাহ রোডের সৈয়দশাহ কলোনী সোসাইটির ২৬৭৮/৩৯৭১ হোল্ডিংয়ের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিনাজুড়ি কাগতিয়ার মজিদা পাড়ার প্রয়াত ফয়েজ আহমেদ তালুকদারের পুত্র এবং দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক।

আদালতে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন মধ্যপ্রচ্যের দুবাই শহরে চাকরি করেছেন। এসময় দেশে ছেলে-মেয়েদের ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছোট মেয়েকে বিয়ে দেন ঢাকা এবং বড় কন্যাকে চট্টগ্রামে। বাবার টাকায় দুই ছেলে পাড়িদেন আমেরিকা-অস্টেলিয়ায়। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে খুবই অসু¯’ হয়ে যাওয়ায় আবুল কালাম আজাদ গত চার বছর আগে দেশে ফিরেন। এর এক বছর পর তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

অভিযোগে বলা হয়, প্রবাস থেকে পাঠানো সব অর্থ ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা, ছেলেদের বিদেশ পাঠানো, নিজেদের ভরন পোষণ, বাসা ভাড়া এবং বিয়েশাদীতে ব্যয় করেন তার স্ত্রী। তবে নিজের অসুস্থ্য শরীর নিয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসা এবং থাকা খাওয়ার চরম কষ্টে পড়েন যান। আশ্রয় নেন ছেলের কাছে। দেশে ফেরার এক বছরের মাথায় মারাযান তার স্ত্রী। এরপরই তার জীবনে নেমে আসে চরম বিপত্তি। মায়ের মৃত্যুর পর অসুস্থ্য বাবাকে আর বাসায় রাজি নন ছেলেরা। মেয়েদের কাছেও আর আশ্রয় মিলেনি। এমনকি বিদেশে থাকাকালিন নগরীর বাকলিয়া সৈয়দশাহ রোডের সৈয়দশাহ কলোনী সোসাইটিতে ক্রয়কৃত ভিটেমাটিতে থাকা পরিত্যক্ত সেমিপাকা টিনশেড ঘরে আশ্রয় নিতে গেলে সেখান থেকেও তাকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর তার স্থান হয় খোঁলা আকাশের নিচে রাস্তার ধারে।

শাহাব উদ্দিন জানান, গত ৮ রমজান আবুল কালামকে খুবই অসুস্থ্য অবস্থায় নগরের অক্সিজেন এলাকায় পড়ে থাকতে দেখেন শাহাব উদ্দিন। ওই সময় তার অসহায়ত্ব ও দুঃখ-র্দুদশার কথা শুনে আবুল কালামকে স্থানীয় অক্সিজেন শীতল ঝর্ণা মাজার গলির জুলির মায়ের কলোনীর ব্যাচলর বাসায় নিয়ে আশ্রয় দেন। এরমধ্যে আবুল কালাম নিজের চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে লাখ টাকার উপরে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন।

শাহাব উদ্দিন বলেন, নিজের জীবিকা নির্বাহ ও চিকিৎসার খরচের অভাবে সম্প্রতি শেষ সম্ভল ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্নজনের কাছে ধরনাদেন আবুল কালাম। এতে বেঁকে বসেন শ্যালক ও ছেলে-মেয়েরা। এই নিয়ে থানা পুলিশ ও সামাজিকভাবে বেশ কয়েকবার বৈঠকও বসে। তবে ছেলে-মেয়েরা এসবেও সফল হতে পারেনি।

মামলায় বলা হয়, গত ১৮ ডিসেম্বর স্বপন নামক এক চাচাতভাইকে সঙ্গে নিয়ে নগরের সৈয়দ শাহ রোডে অবস্থিত নিজের জায়গায় থাকা পরিত্যক্ত ঘরগুলো অপসারণে শ্রমিক নিয়ে যান আবুল কালাম। সে সময় বড় মেয়ে, ছোট ছেলে ও শ্যালক তাকে মারধর করে সেখান থেকে বিতাড়িত করেন। এরপর থেকে তার আর সন্ধান মিলেনি। এই বিষয়ে র‌্যাব ও থানা পুলিশকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মিলেনি।

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: জান্নাতুল ফেরদৌস

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.