× প্রচ্ছদ জাতীয় সারাদেশ রাজনীতি বিশ্ব খেলা আজকের বিশেষ বাণিজ্য বিনোদন ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অবৈধ দখল দূষণে অস্তিত্ব সঙ্কটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউন খাল

এক যুগ পর উদ্ধার হচ্ছে খালের জায়গা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:২৪ পিএম

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী টাউন খালটি নাব্যতা হারিয়ে এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধ দখলের লিপ্সা, অসচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্রমাগত উদাসীনতায় খালটি বর্তমানে মৃতপ্রায়। গত এক যুগের অধিককালে এটি এখন ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে। জমাট বেঁধে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা কালো পানিতে পরিবেশ দূষণসহ ক্ষতিকারক মশাও তৈরি হচ্ছে এখান থেকে।

এসব সমস্যা নিয়ে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা সমূহে একের পর এক সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলেও দীর্ঘ এক যুগের অধিককালেও খালটি সংস্কার করে স্রোতস্বীনি অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখল মুক্ত করার কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। ১৩ বছর পর বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় দৈনিক তিতাস কণ্ঠের সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রেজার মাধ্যমে জাতীয় দৈনিক সংবাদ সারাবেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি আবুল হাসনাত অপুর প্রস্তাবনা অনুসারে খালটি পুণরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন তিনি। জেলা প্রশাসক সরেজমিন খাল পরিদর্শন করার পর গত কয়েক মাস আগে খালের অভ্যন্তরিত আবর্জনা, ময়লা অপসারণের তৎপরতা চালান পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায়। এরপর গত সোমবার থেকে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে খালের উত্তর দক্ষিণ দুই পাড়ের শতাধিক অবৈধ ভবনসহ স্থাপনা উচছেদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে টাউন খালটির জায়গা উদ্ধারের জন্য উচছেদ করা হয় অবৈধ স্থাপনা। এ দিন খালের দু’পাশের ১৬টি দোকান ও ১৬টি অধিক বাড়ি-ঘরে ভাংচুর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরেও  উচছেদ অভিযান চলমান ছিল। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা উচছেদ করা হয়েছে। 

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনজুর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রশান্ত বৈদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

তবে, ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া দোকান ও বাড়িগুলো সরকারের জায়গা নয় এমনটা দাবী করছেন মালিকগণ। টান বাজার এলাকায় খালের উত্তর দিকে থাকা মার্কেটের মালিক মোঃ হেলাল মিয়া বলেছেন, বহুদিন ধরে মার্কেটে ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু সরকারের জায়গা দখল করে রাখিনি। আমার এই দোকান ভাংচুর হওয়ায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

শুধু দোকানের মালিক নয়, কান্দিপাড়া এলাকার খালের দক্ষিণ দিকে থাকা বাড়ির মালিক আজম মিয়া বলেন, ২০০৭ সালে এই  বাড়ি কিনে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু এমন কিছু আগে জানতাম না এটা খালের জায়গা। কিছু দিন আগে হঠাৎই ঘোষণা করা হয় তাদের নির্ধারিত দেয়া দাগ পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলার জন্য। চিন্তা করলাম সরকারি লোক যখন ভাঙব তখন ওল্টা-পাল্টা ভাঙ্গা শুরু করব। তাই নিজ থেকেই লাল দাগ পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছি। এতে অনেক ক্ষতি হয়েছে আমাদের। 

অনেকের অভিযোগ, গত কয়েক বছর আগে বিশ্বব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকার বাজেট আসলেও খালটির উন্নয়নে তেমন কোন কাজ করা হয়নি। বরং সৌন্দর্য্যবর্ধনের নামে অপরিকল্পিতভাবে কিছু কাজে খালটির আরো ক্ষতি করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের দেয়া তথ্যমতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বড় গোকর্ণ মৌজা, পৈরতলা মৌজা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর এই তিন মৌজায় খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। সৃষ্টিলগ্নে টান বাজার তিতাস নদীর পশ্চিম পাড় থেকে একেবারে গোকর্ণ তিতাস নদীর ঘাট পর্যন্ত সংযুক্ত এই খালটির গভীরতা ছিল ২০ ফুট। কিন্তু সেটি কমে গিয়ে বর্তমানে আছে মাত্র ৬/৭ ফুট। 

২০০৯ সালে হাফিজুর রহমান মোল্লা (কচি) পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন সৌন্দর্য্যবর্ধনের জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বিউটিফিকেশন (স্টিফপ-২) নামক একটি প্রকল্প হাতে নেয়। তৎকালীন পৌরবাসীর সাথে কোনরকম পরামর্শ ছাড়াই মনগড়াভাবে এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়। তারপর থেকেই খালটি এলাকাবাসীদের ডাস্টবিন ও ময়লার স্তুপ হিসেবে পরিণত হয়। তবে, খালটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। টাউন খালটি দিয়ে নৌকা চলার শব্দ শুনা যেত প্রতিদিন। তাছাড়া এলাকার লোকজন এই খালটিতে অনেকই গোসল করত এবং তাদের নিত্যদিনের কাজে ব্যবহার করত খালের পাশের বাসিন্দারা।  

জগৎ বাজারের এক ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান বলেন, খালটির নব্যতা ফিরে আসলে আবারো পানি বহমান থাকবে। তাতে ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক লাভজনক হবে। ব্যবসার কাজে আসা দূর দূরান্তের লোকজন আবারও নৌকা দিয়ে জগৎ বাজারের ঘাটে এসে নামবে। এতে মালামাল আনা-নেওয়ায় উভয়পক্ষের জন্য ভালো হবে খরচ কমবে।

টাউন খালের জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগটি গ্রহণ করায় এটিকে ঈদের-খুশির ন্যায় দেখছেন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। কারণ সংগঠনগুলো টাউল খাল উদ্ধারের জন্য বেশ কয়েকবার আন্দোলন চালিয়ে ছিল। রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ঘর-বাড়ি, দোকানপাট থাকায় নানা কারণে কর্তৃপক্ষ খালটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। তবে বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলমের সাহসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টায় আজ এই ঐতিহঢবাহী টাউন খালটি দখল মুক্ত হচ্ছে বলে মনে করছে সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া টাউন খালটির নাব্যতা ফিরবে এমনটা আশা করে নদী নিরাপত্তা সংগঠন নোঙরের সভাপতি মোঃ শামীম আহমেদ জানান, টাউন খালটির নাব্যতা ফিরেয়ে আনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেছি সদস্যদের নিয়ে। অতঃপর আমাদের কষ্ট কাজে দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ খননের কাজ শুরু করে। তারপর অবৈধ দখল উচছেদের অভিযান শুরু করেছে।

তাছাড়া টাউন খালটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করে একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করা হোক এমনটা দাবী করেছেন আবৃত্তি শিল্পী মনির হোসেন ও সোহেল আহাদ। 

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম বলেন, টাউন খালটি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে মিটিং করেছি এটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। তাছাড়া সাংবাদিকরাও এই টাউন খালটির দখল ও দূষণ মুক্ত করতে আমাকে অবহিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমে লেখা লেখিও করেছে। তারপর খালটি পরিদর্শন করে হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী খালটি অবৈধ দখল ও দূষণ মুক্ত করা উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। 


Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com, বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.