× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আখের বাম্পার ফলনে লাভবান টাঙ্গাইলের চাষিরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬:০৭ পিএম

রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় টাঙ্গাইলে এবার আখের ভালো উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগাম আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন চাষিরা। বাজারমূল্য কিছুটা চড়া হলেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চাষিরা খুশি এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। 

এলাকায় ধুম পড়ে গেছে আখ কাটা ও বিক্রিতে। তবে সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে টাঙ্গাইলে আখ চাষ করছেন আখ চাষিরা। অপরদিকে বেশি লাভ পাওয়ায় আখ চাষে ঝুঁকছে অন্যরা।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলার মধ্যে সখীপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা ছাড়া বাকি ১০টি উপজেলাতেই আখের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৯  হেক্টর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ৭৮৬ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৭ হেক্টর জমিতে আখ চাষ বেশি হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ৪০৫ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২, কালিহাতী উপজেলায় ৩০, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬, নাগরপুর উপজেলায় ২৮০, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২, মধুপুর উপজেলায় ১১, ভূঞাপুর উপজেলায় ৫৫, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর ও দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। আর গত বছর ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিল। চাষযোগ্য জমিগুলোতে যদি বন্যার পানিসহ অন্যান্যভাবে পানি দেয়া সম্ভব হতো তাহলে আবাদ আরও বৃদ্ধি করা যেতো। তবে এবার বৃষ্টিপাতের কারণে ফলন অনেক ভাল হয়েছে।

মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, ভালো জাত নির্বাচন, রোগব্যাধি কম থাকায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ফলন বেশি হয়েছে। আগাম আখ বাজারে আসায় কৃষকরা দামও বেশি পাচ্ছে। চলতি বছর বিভিন্ন জাতের আখ আবাদ হয়েছে। অমৃত, রং বিলাশ, ঈশ্বরদী-১.২ সিএসি ২০৮ জাতের আখ রোপন করেছে কৃষকরা। আখ উৎপাদনে ঝুঁকি কম এবং অধিক ফসল উৎপাদন করে বাড়তি টাকা আয় করা যায়। যার কারণে আখের উৎপাদন খরচও কম হয়। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে বেশি  লাভবান হন। 

চাষিরা বলছেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার আখ আবাদ ভাল হয়েছে। সরকারীভাবে যদি সারসহ অন্যান্য সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যেতো তাহলে অধিক লাভবান হতে পারতেন তারা। 

ইউনিয়নের চাড়াবাড়ি এলাকার চাষি মো: আরফান আলী বলেন, এ বছর আমি চার বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আর জমি তৈরি, চারা কেনা, শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় লাখ টাকার ওপরে আখ বিক্রি হবে। আখচাষি আবেদ ঢালী বলেন, এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বাজারে আখের দাম ভালো হওয়ায় আমি লাভবান হতে পারব।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক এই প্রতিবেদক কে বলেন, কয়েক বছর ধরে জেলায় আখ চাষের আবাদ বাড়ছে। এ বছর আখ চাষের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চাষিরা। আখ ক্ষেতে 'সাথী' ফসল আবাদ করে তা থেকে আখ চাষের খরচ উঠে আসে। পরে আখ বিক্রির টাকা এককালীন লাভ হিসেবে চাষিরা পেয়ে যায়। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে আখচাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক আখ চাষে জড়িত। উপসহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com, বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2022 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.