× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ঔষধ ক্রয়ের ঠিকাদার নিয়োগ অনিশ্চিত

ঔষধ বঞ্চিত হবে ২৬ লাখ মানুষ

আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা

৩০ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৪১ পিএম । আপডেটঃ ৩০ অক্টোবর ২০২২, ১৩:৫২ পিএম

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ঔষধসহ ছয়টি গ্রুপের বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের  (এমএসআর) সামগ্রী ঠিকাদার নিয়োগ সংক্রান্তে বিভিন্ন অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

 আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে  ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম।ফলে ঔষধসহ এম,এস,আর সামগ্রী পাবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে জেলার ২৬ লাখ মানুষ।  এমন আশংকা করছে সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিজ্ঞ আদালত যদি সদয় হয়,তবেই পাবে  নানা বয়সের অসুস্থ মানুষগুলো ঔষধসহ এম,এস,আর সামগ্রী। 

গত ৩ অক্টোবর গাইবান্ধার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এই মামলাটি করেন জেনারেল হাসপাতাল রোডস্থ ফকির পাড়া এলাকার ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আফরোজা ইসলাম।

এই মামলায় পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে।তারা হলেন, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,পরিচালক(অর্থ),সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার( আরএমও)। 

হাসপাতাল সুত্রে জানায়, প্রতি বছরের মতো ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জন্য ছয়টি গ্রুপে এম,এস,আর সামগ্রী ক্রয়ের নিমিত্তে গনখাতে সংগ্রহ বিধিমালা ২০০৮,২০০৯ (সংশোধিত),২০১০(সংশোধিত) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন -২০০৬,২০০৯(সংশোধিত),২০১০(সংশোধিত), ২০১৬ ( সংশোধিত) মতে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহবান করা হয়।  গ্রুপ ছয়টি হলো, ঔষধ( ইডিসিএল বর্হিভূত), লিলেন সামগ্রী,যন্ত্রপাতি,গজ-ব্যান্ডেজ- তুলা,পরীক্ষা- নিরীক্ষা ও আসবাবপত্র। 

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তৎকালিন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও) ও দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ এসএম তানভির রহমান  জানান, মামলার বাদি সিডিউল কিনলেও অত্র কার্যালয়ে দাখিল করেননি। এছাড়া দরপত্রে উল্লেখিত ১৬ নম্বর ক্রমিকের প্রাক- দরপত্র  সভায় তারা উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তাদের পক্ষেও কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সেক্ষেত্রে মামলার বাদি'র অভিযোগ গ্রহনযোগ্য নয়। তবে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্তসঙ্গত জবাব দাখিল করেছে বিবাদীগণ। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ২৬ লাখ মানুষের  কথা চিন্তা করে দ্রুত সমাধান দেবে এমন প্রত্যাশা করে তিনি । তিনি আরও বলেন, পুর্বের ঠিকাদারদের সরবরাহকৃত ওষুধ সহ এম,এস,আর সামগ্রী আগামী দুইদিনের মধ্য শেষ হবে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  ওষুধসহ এম,এস আর সামগ্রী রোগীদের  বিতরন করতে পারবে না।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও দরপত্র মুল্যায়ন কমিটির সভাপতি  ডাঃ মাহবুব  হোসেন বলেন, দরপত্রের শর্তাবলীর মধ্য অন্যতম ৮ এর (ছ) পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

 তিনি বলেন,শর্ত মতে ৮(ছ) মতে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাদিগন অংশ গ্রহন করেননি।ফলে বাদিগনের মামলা দায়ের করার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। জেনারেল হাসপাতালে এম,এস,আর মালামাল সরবরাহের জন্য জেলা হাসপাতাল বা তদোদ্ধ হাসপাতালের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে বাধ্যতামুলক।
 
গত বছরের তুলনায় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের সরকারী বরাদ্ধের পরিমান বেশী হওয়ায় যাহা পিপিএ/২০০৬,পিপিআর /২০০৮ ধারা ৪৯ (অ)৪৮,২(ঊ) মতে ৮(ছ) নম্বর ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে।সেক্ষেত্রে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের এম,এস,আর দরপত্রের শর্তাবলীর ৮(ছ) সঠিক হয়েছে।

 তত্বাবধায়ক আরও বলেন, মামলার বাদিগনের জেনারেল হাসপাতাল,জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এম,এস,আর মালামাল সরবরাহের পুর্বের কোনো অভিজ্ঞতার সনদ নেই। সেক্ষেত্রে ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ কোনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে পরামর্শ করে যোগসাজসী দরপত্র আহবান করেনি।তবে প্রশাসনিক নিয়মে উক্ত দরপত্র আহবান করা হয়েছে।
 

এছাড়া দুইটি কমিটির মাধ্যমে দরপত্র চুড়ান্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ এককভাবে কোনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেবার ক্ষমতা রাখেন না৷ ফলে বাদিগনের আনিত অভিযোগ সম্পুর্নভাবে বানোয়াট এবং সরকারী ক্রয়কার্যে বাঁধা প্রদানের সামিল বলে মনে করেন তত্বাবধায়ক ডাঃ মাহবুব হোসেন।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক: আবদুল মজিদ

প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । sangbadsarabela26@gmail.com, বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2023 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.