× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মতলবে মায়ার সমর্থকদের তাণ্ডব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০:০৪ পিএম

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ (মতলব ও দক্ষিণ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই মতলব উত্তরের বিভিন্ন স্থানে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সমর্থকরা সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে কয়েক শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ আহত করা হয়েছে ৫০ জনকে।  এছাড়ও উপজেলার বিভিন্ন অ লে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

সরজমিনে জানা যায়, চাঁদপুর-২ (মতলব ও দক্ষিণ) আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থকরা তিন ভাগে বিভক্ত। তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা

বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, সদ্য পদত্যাগকারী পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সমর্থনে তিন ভাগে বিভক্ত রয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর চাঁদপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার নাম ঘোষণার পর থেকেই তার সমর্থকরা

বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, সদ্য পদত্যাগকারী পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটসহ  তাদের ওপর সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাচ্ছে। তারা যেখানে যাকে পাচ্ছে সেখানেই মারধর করে গুরুতর জখম করছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সহিংসতার শঙ্কা ততই বাড়ছে। এ পরিস্থিতে মতলবে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, মোহনপুর পর্যটন মার্কেট ও মোহনপুর বাজারের ২০/৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছেন মায়ার সমর্থকরা ৷

ভুক্তভোগীদের স্বজনদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মায়ার সমর্থকদের ভয়ে ওই ব্যবসায়ীরা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

তাদের দাবি, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে রখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুধীমহল মনে করেন, মতলবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পরিস্থিতি যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে৷

এদিকে, মোহনপুরের কাসেম মিয়ার ছেলে আইয়ুবকে মারধর করে গুরুতর জখম করেছেন মায়ার সমর্থকরা৷ আইয়ুবসহ আরো ২০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন। এছাড়া এখলাছপুর,জহিরাবাদ, কলাকান্দা, ফতেপুর পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল ও প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের সমর্থকদেরকে মারধরসহ নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস আগে মায়ার সমর্থকরা বাহাদুরপুর গ্রামে নুরুল আমিন রুহুলের সমর্থকদেরকে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় ৫৫টি পরিবার জড়ালে তারা বাড়িঘর ছেড়ে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এসময় ওই ৫৫টি পরিবারের প্রায় ১২ কোটি টাকার মালপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় মায়ার সমর্থকরা৷

গত কয়েক দিন যাবত নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বর্তমানে মতলবে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে৷ অন্যদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রাণ বাচাঁতে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে।

গত ২৮ নভেম্বর ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা লুধুয়া গ্রামের সোহেল রানার বসতঘরে হামলা দিয়ে ভাংচুর করে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার লালিত কর্মীরা। স্থানীয় মনির মোল্লার নেতৃত্বে আরো কয়েকজন এই হামলা চালায়। তাদের সাথে বাহাদুপুর গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী কালু অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ফলে ভয়ে কেউ কিছু বলছেনা ।

এদিকে সুজাতপুর বাজারে গত ২৭ নভেম্বর গোস্তের ব্যবসায়ী ফয়েজ উল্লাহ ও তার ছেলে শান্তকে মারধর করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ পরিচয়কারী তামজিদ হোসেন রিয়াদ। তার দলবল নিয়ে এই ব্যবসায়ীকে মারপিট করে এবং দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলে দোকান খুললে প্রাণ নাশের ও হুমকি দেওয়া হয়। 

সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের আমিয়াপুর গ্রামে মায়ার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আহত হয় আল-আমিন নামের একজন নিরীহ লোক। তাকে  মারধরের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে এলাকায় এমন তান্ডব চালাচ্ছে।

গত ২৭ নভেম্বর দুপুরে নন্দলালপুর বাজারে স্থানীয় নাছির, দুখু মিয়া ও বিজয়ের বেপরোয়া মারধরের শিকার হয় রাসেল নামের এক ব্যক্তি। তারা মায়া চৌধুরীর কর্মী এই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাস শুরু করেছে। যার কারণে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে। 

কলাকান্দা ইউপি সদস্য আবুল বাশার সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সাবেক ইউপি সদস্য মাহফুজ সরকারের বাড়ির সামনে স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে হামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও অফিস ভাংচুর করেছে মায়ার সমর্থকরা। 

এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ভোট নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। এমন তাণ্ডব চলতে থাকলে ভোট প্রয়োগে অনিহা প্রকাশ করছে সাধারণ ভোটাররা। 

আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সহ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাথে কথা হলে তারা জানান, বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ৫ বছর মতলবে শান্তি ছিল। একদিকে মায়া চৌধুরী নৌকা প্রার্থী ঘোষনা হয়েছে অন্যদিকে মানুষের বাড়িঘরে হামলা, মারধর এবং অস্ত্র মহড়া শুরু করে দিয়েছে তার লোকজন। গত ২০১৪-১৮ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতা পেয়ে যেমন লুটপাট করেছে, এমনি ভাবে এবারও তা করতে চাইছে। তাদের এই তান্ডবে জীবনের মায়ায় ৪-৫ হাজার দলীয় নেতাকর্মী এখন এলাকা ছাড়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবী আমরা মতলববাসী সন্ত্রাসী চাই না, শান্তি চাই।

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.