× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নরসিংদীতে গলা কেটে হত্যার আসামি গ্রেফতার, পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

নরসিংদী প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল ২০২৪, ১৫:২৯ পিএম

নরসিংদী পলাশের চরনগরদীতে  ঘরে ঢুকে দেলোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহীনিকে গলাকেটে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনজুরুল ইসলাম হৃদয় নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ। আর এ গ্রেফতারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এর তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান।

সোমবার সকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, নিহত দেলোয়ারা বেগমের ছোট ছেলে নাদিম মিয়ার সাথে জেলখানায় মনজুরুল ইসলাম হৃদয়ের সাথে পরিচয় হলে ওখান থেকে তাদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক হয়। সেই সূত্র ধরে হৃদয় নিয়মিত নাদিমদের বাসায় যাওয়া আসা করতো। আর নাদিমের দুই ভাই বিদেশে থাকায় তাদের বাসায় অনেক টাকা পয়সা আছে ভেবে হৃদয় নাদিমের মা দেলোয়ারা বেগমকে গলা চেপে ধরে। এতে দেলোয়ারা দুর্বল হয়ে গেলে তাকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় দেলোয়ার বেগমের কানের ও নাকে থাকা স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল নিয়ে যায়। 

ঘটনার পর নরসিংদী ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ খোকন চন্দ্র সরকার এ বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু করে। অবশেষে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামি মনজুরুল ইসলাম হৃদয়কে গ্রেফতারের দাবি করেন পুলিশ। তবে আসামি হৃদয়কে কখন কোথায় থেকে গ্রেফতার করা হয় সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। হৃদয় নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার মাইনুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে তার আপন দাদিকে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। সে মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছে। 

হৃদয় দ্বারা দেলোয়ারাকে হত্যার কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন যেহেতু হৃদয় আগেও একটি হত্যার ঘটনায় জড়িত এরই ধারাবাহিকতায় সে আরেকটি হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি পুলিশ সুপারের। আসামি হৃদয়কে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি, একটি মোবাইল, স্বর্ণালংকার, ট্রাউজার ও শার্ট উদ্ধার করা হয়।

তবে নিহত দেলোয়ারা বেগমের বোন নার্গিস বেগমের দাবি উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকার তাদের মায়ের নয়। কেননা তার মায়ের অলংকার গুলো নার্গিস বেগম নিজেই স্বর্ণের কারিগরের কাছ থেকে তৈরি করে দিয়েছেন। তাই এগুলো তাদের নয় বলে দাবি করেন। অপরদিকে নিহত দেলোয়ার আর ছেলে কিরণ ও হিরণ দাবি করেন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আরো লোক জড়িত থাকতে পারে। হত্যাকাণ্ডটি হৃদয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। নিয়ত দেলোয়ার ছোট্ট ছেলে নাদিম দাবি করেন স্ত্রীর মামলায় জেলে থাকা অবস্থায় হৃদয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে কিন্তু তার সাথে তেমন কোনো সখ্যতা তৈরি হয়নি। নাদিম আরো জানায়, আমাদের প্রতিবেশী হাবিল মিয়ার সাথে জায়গা জমি নিয়ে বিবাদ রয়েছে আর সেই বিবাদ মীমাংসা করার জন্য তাদের আত্মীয় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান আজাদ,  ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজীর প্রভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। আর গ্রেফতারকৃত আসামি হৃদয় প্রতিবেশি হাবিল মিয়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। হাবিল মিয়া এই হৃদয়কে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে আমাদের বিশ্বাস। 

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে পলাশ উপজেলার চর নগরদী গ্রামে নিজ বাড়িতে শয়নপক্ষে হত্যার শিকার হয় দেলোয়ারা বেগম। নিহত দেলোয়ারা (৫০) মৃত মালেক দেওয়ানের স্ত্রী।

হত্যাকাণ্ডের পর পলাশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন, পিবিআই পুলিশের ওসি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজী  এবং ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান আজাদ উপস্থিত হন। 

হত্যাকাণ্ডের পর ইতালি থেকে নিহত দেলোয়ারা বেগমের বড় ছেলে হিরন মিয়া এবং মেজো ছেলে কিরন মিয়া দুবাই থেকে চলে আসেন। অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কিরণ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ৩০ মার্চ পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.