× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অপহরণের পর শিশু ছোয়াদ এখন মায়ের কোলে

কক্সবাজার প্রতিনিধি

০১ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৩৬ পিএম

অপহরণ আর মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েই প্রবাসীর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন রোহিঙ্গা নারী উম্মে সালমা। সেই সূত্র ধরেই গত ৯ মার্চ কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অপহরণ করা হয় ছয় বছরের শিশু মাদ্রাসাছাত্র ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহকে।

অপহরণের ২২ দিনের মাথায় গত শনিবার কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। ৩১ মার্চ (রবিবার) তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সাহসিকতার সাথে কাজটি করেছে টেকনাফ ও মহেশখালী থানার সমন্বয়ে গড়া পুলিশের অভিযানিক দল। 

এ ঘটনায় কয়েক দফায় গ্রেপ্তার করা হয় ১৭ জনকে। তারা হলেন- মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা টেকপাড়া এলাকার সালামত উল্লাহ প্রকাশ সোনাইয়া, একই ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার জহির আহমেদ, হাসমুল করিম তোহা, ছামিরাঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, ফরিদুল আলম খান, আমির হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম তোহা।

টেকনাফের মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাগু ডাকাত ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম, তাদের ছেলে আনোয়ার সাদেক ও তার স্ত্রী হোসনে আরা, নাগু ডাকাতের আরেক ছেলে রনি, নাগু ডাকাতের ভাই মোহাম্মদ হাশেম, খাতিজাতুল খোবরা, লায়লা বেগম, উম্মে সালমা, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিরপাড়ায় বসবাসকারী পুরোনো রোহিঙ্গা নাসির আলম। ঐদিকে মহেশখালীর কালারমারছড়া অপহরণকারী সন্ত্রাসীদের ডেরা কালারমারছড়ার টেকপাড়া ও পাহাড়ে অভিযান চালালে গ্যাং লিডার কালা জাহাঙ্গীর ও জয়নালকে গ্রেফতার করা সম্ভাব হয়নি। তারা অভিযান টের পেয়ে অল্পের রক্ষা পেয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে।

জানাযায়, গত ৯ মার্চ মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলার পূর্ব পানখালীর আবু হুরায়রা মাদরাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ একটি অপহরণ চক্র। শনিবার (৩০ মার্চ) অপহরণের ২২ দিন পর টেকনাফের ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয় কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে। এ সময় আটক করা হয় অপহরণের মূলহোতা আনোয়ার সাদেকসহ ৫ জনকে।

গত রোববার (৩১ মার্চ) বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। অপহরণকারীদের দেয়া তথ্যের বরাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানান, টেকনাফ থেকে অপহরণের পর শিশুটিকে প্রথমে ঈদগাঁও এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

পরে পুলিশ তৎপর হলে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় পাহাড়ি জনপদ মহেশখালীর কালারমারছড়ার বাজারের পাশে টেকপাড়া পরে গহীন বনে। এরপর ওই সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের সদস্যরা একের পর এক আটক হলে মহেশখালী থেকে শিশুটিকে আবারও কুমিল্লার লালমাই থানা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ এই অপহরণ চক্রের মধ্যে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা মিলে অন্তত ৫০ জনের মতো রয়েছে। যাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

শিশুটির মা ও মামা জানায়, অপহরণের পর অপহরণকারীরা প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর ১৭ লাখ, পরে ১৩ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ১০ লাখ টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেয় তারা। তাদের দাবি, বাড়ি বন্ধক দিয়ে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করেছিল। পরে পুলিশ তাদের সন্তানকে উদ্ধারের পাশাপাশি মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, আনোয়ার সাদেকই মূলত এই অপহরণ চক্রের প্রধান হিসেবে আটককৃতদের ও কালা জাহাঙ্গীর চক্রের সদস্যর হয়ে কাজ করে আসছে। পরিবারে সদস্য ও আত্মীয়দের নিয়ে গঠিত অপহরণ চক্রের প্রদান সাদেকের পরিকল্পনায় উম্মে সালমা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সৌদিপ্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নিয়েছিলেন। যেখানে কিছুদিন কাজ করার পর ছেলে ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে পরিচয় এবং সখ্য তৈরি করে। এর কিছুদিন পর উম্মে সালমা চলে গিয়ে অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।

তিনি আরও জানান, ৯ মার্চ দুপুরে ক্লাস শেষে মাদ্রাসায় ফেরার পথে মায়ের দুর্ঘটনা ও হাসপাতালে মাকে দেখতে যাওয়ার কথা বলে অপহরণ চক্রের সদস্যরা শিশুটিকে নিয়ে একের পর এক স্থান পরিবর্তন শুরু করে

দিনের ছোয়াদকে অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করেন উম্মে সালমা। ওই দিন সন্ধ্যায় ওই শিশুর মা নুরজাহান বেগম অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি জানান, এরপর থেকে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে। অভিযানে একেকজনকে গ্রেপ্তারের পর আরও তথ্য আসতে শুরু করে। এর মধ্যে শিশুর মা নুরজাহান বেগমকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এমনকি মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, অপহরণ চক্রের সদস্যরা শিশুটিকে নিয়ে একের পর এক স্থান পরিবর্তন শুরু করে। টেকনাফ থেকে অপহরণের পর শিশুটিকে ঈদগাহ এলাকায় রাখা হয়। ওখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার গহিন পাহাড়ে। সেখানে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লার লালমাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। এর মধ্যে মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা প্রদানের কৌশলে শনিবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা ফেরত আনা ছাড়াও অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, অপহরণের বিষয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ অভিযানের জন্য সহযোগিতা চাইলে মহেশখালী থানা পুলিশ দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। 

উল্লেখ্য, চলতি বছরের তিন মাসে টেকনাফ থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। হয়তো এ চক্রের সদস্যরা প্রত্যাক অপহরণ কাজে জড়িত এমনটি কানাঘুষা চলছে সাধারণ জনগণের মাঝে। 

Sangbad Sarabela

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । 01894-944220 । [email protected], বিজ্ঞাপন: 01894-944204

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.