× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তাপদাহে বৃষ্টির প্রার্থনায় সারাদেশে ইস্তিস্কার নামাজ

জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি

২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৯:০৮ পিএম

গ্রীষ্মের তাপদাহ ও খরায় পুড়ছে সারাদেশ। প্রখড় রোদ ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। পানির অভাবে ফসলের খেত ফেঁটে চৌঁচির হয়ে পড়েছে। পানির জন্য সর্বত্র  হাহাকার অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহর নিকট দুই রাকাত ইস্তিস্কার বিশেষ নামাজ আদায় করেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর)

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রচণ্ড খরা ও তাপদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস চরমে। স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে বৃষ্টির প্রার্থনায় সালাতুল ইস্তিসকার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ মাঠে এ নামাজের আয়োজন করা হয়।

এতে ইমামতি করেন বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম হাফেজ মাও. মো. হাসানুজ্জামন বিন আবুল কালাম আজাদ।

সকাল ১০.৫টায় এ নামাজ শুরু হয়। পরে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী মোনাজাত করা হয়।

এতে সাবেক ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র শামসুল হক, বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবিএম জহুরুল হাসান রাজু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ পাঁচ শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয় বেস্ট ভিউ এরাবিক মাদরাসার এমডি খালেদ সাইফুল্লাহ্ সাইম, প্রভাষক শামীম হোসাইন সোহেল, রেনেসা হসপিটালের পরিচালক গোলাম রব্বানী, সরিষাবাড়ী আইসক্রিম মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হকসহ স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে সালাতুল ইস্তিসকার আয়োজন করা হয়।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

গ্রীষ্মের তাপদাহ ও খড়ায় পুড়ছে সারাদেশ। প্রখড় রোদ ও তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। পানির অভাবে ফসলের খেত ফেঁটে চৌঁচির হয়ে পড়েছে। পানির জন্য সর্বত্র  হা-হাকার অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মহান আল্লাহর নিকট  দুই রাকাত ইস্তিসকার বিশেষ নামাজ আদায় করেছে বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার  (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।  

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাভান্ডার গ্রামে আলহাজ আব্দুল গফুর হাফেজিয়া মাদ্রাসা  মাঠে, সোনাহাট উচচ বিদ‍্যালয়  মাঠে, পাইকেরছড়া বরকতিয়া উচ্চ বিদ‍্যালয় মাঠে,  উত্তর তিলাই রুহুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসা ও বলদিয়া ইউনিয়নসহ উপজেলার  বিভিন্ন এলাকায় এ বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে শত শত ধর্মপ্রান মুসল্লী সমবেত হয়ে বিশেষ নামাজে অংশগ্রহন করেন। এসময় মোনাজাতে অংশ নেয়া মুসল্লিগন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য দোয়া করেন। 

রাশেদ, নুর ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন নামের একাধিক  মুসুল্লি বলেন,  আমার জীবনে আমি এমন গরম দেখি নাই। এই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে আজ বিশেষ নামাজ আদায় করলাম। আল্লাহ পাক যেন বৃষ্টি দেয় পরিবেশটা যেন ঠান্ডা হয়ে যায়। 

আব্দুল আজিজ নামের আরও এক মুসুল্লি বলেন, সারাদেশে যে তীব্র দাবদাহ চলছে। এর পরিপ্রক্ষিতে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম এবং ইস্তিসকার নামাজ আদায় করলাম। আল্লাহ তালা যেন রহমতের বৃষ্টি বর্ষন করেন জমিনে। 

বিশেষ নামাজে মোনাজাত পরিচালনাকারী ভূরুঙ্গামারী সরকারি কলেজ মসজিদের খতিব মাওলানা খাইরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বর্তমান যে সমাজের অবস্থা। তীব্র খড়ার কারণে সমাজে দাবদাহ সৃষ্টি হয়ছে। ফরে পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে। শুধু তাই না তীব্র তাপদহের কারণে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা বিশেষ নামাজ আদায় করলা। 

অপরদিকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস সুত্র জানায়, কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহ ধরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি থেকে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ওঠা-নামা করছে। তবে আপাতত তাপমাত্রা কমার কোন সম্ভাবনা নেই।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে এবং ফসলাদির জন্য আল্লাহর নিকট প্রশান্তি দায়ক বৃষ্টির প্রার্থনায় সালাতুল ইস্তেস্কার নামাজ আদায় হয়েছে। বৃহষ্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার চরদু:খিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের লড়াইরচর দরবার শরীফের অনুুষ্ঠিত সালাতুল ইস্তেস্কার নামাজে দরবার শরীফের পীরে কামেল  আলহাজ্ব হযরত মাওলানা বেলাল বিন মোস্তফা কামাল সভাপতিত্বে নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ মাওলানা নুরুল ইসলাম। এসময় আলোনিয়া ফাযিল মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুনছুর আহমদ, মাওলানা মিজানুর রহমান, সবুজ স্যারসসহ এলাকার প্রায় আড়াইশত মুসুল্লি ও  এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও দারুল কোরান হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। মুনাজাতে বর্তমানে চলা তীব্র দাবদাহ থেকে বাচতে এবং ফসলাদির জন্য আল্লাহর নিকট প্রশান্তি, সকল বালা-মসিবত থেকে বাঁচতে প্রার্থনা করা হয়। দেশের উন্নতি ও সফলতা কামনা করা হয়। 

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

সারাদেশে টানা তাপপ্রবাহের ফলে হাসফাস করছে জনজীবন। সেইসাথে অতি খড়ায় পানির অভাব দেখা দিয়েছে ফসলের মাঠে। আর এইতীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষায় বৃষ্টি চেয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয়  মুসল্লিরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নুকালি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এই নামাজের আয়োজন করেন নূরানী ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা রাশেদুল হাসান রাশেদ সিদ্দিকী। এ সময় বিশেষ এই নামাজ আদায় করতে জড়ো হন বিভিন্ন এলাকার শতশত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

নামাজের ইমামতি করেন মাওলানা রাশেদুল হাসান রাশেদ সিদ্দিকী। পরে তিনি আরবিতে খুতবা দেন। যেখানে তীব্র গরমের কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করেন। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তিসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করা হয়।

নামাজ আদায় শেষে মাওলানা রাশেদুল হাসান রাশেদ সিদ্দিকী বলেন, কোরআন-হাসিদের আলোকে যতটুকু জানা গেছে, তা হলো মানুষের সৃষ্ট পাপের কারণেই মহান আল্লাহ এমন অনাবৃষ্টি ও খরা দেন। বৃষ্টিপাত না হলে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে খোলা ময়দানে ইসতিসকার নামাজ আদায় করতেন। সে জন্য তারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপের জন্য তওবা করে এবং ক্ষমা চেয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, হাফেজ সাইদুল ইসলাম, মওলানা সেলিম রেজা, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম স্বপনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নওগাঁ

বেশ কয়েক দিন ধরে তিব্র তাপদাহে পুড়ছে সারা দেশ । এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে সাপাহার সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে বৃষ্টি কামনায় ইস্তিসকার নামাজের  আয়োজন করেছে সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ০৯টার দিকে সাপাহার সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এই ইস্তিসকার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। ইস্তিসকার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করে অঝোরে চোখের জল ছেড়ে মোনাজাত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন ইমাম ও এলাকার মুসল্লিগণ।

নামাজে ইমামতি ও দোয়া পরিচালনা করেন মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা ওমর ফারুক।

বিশেষ এই নামাজে অংশ নেয়া সাধারণ সুসুল্লিগণ জানান, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বৃষ্টির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং  টানা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে । মাঠে রোদে পুড়ে কৃষকের ফসল নষ্ট হচ্ছে নষ্ট হচ্ছে বাগানে  আমের গুটি । রোদের তীব্রতায় শ্রমজীবী মানুষ বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না । এমন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আশায় উপজেলাবাসী বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার আয়োজন করেছেন।

ইস্তিসকার নামাজ আদায় করতে আসা কৃষক আব্দুস সালাম  বলেন , অনেক দিন বৃষ্টি নেই, তীব্র রোদ ও প্রচন্ড গরম পড়ছে। অপর দিকে ঘনঘন লোডশেডিং সব মিলিয়ে চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি । তাই মহান আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য নামাজ ও দোয়া করতে এসেছি।

অন্যান্য মুসুল্লিরা বলেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিপাত না হলে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে খোলা ময়দানে ইস্তিসকার নামাজ আদায় করতেন। সে জন্য তারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদের পাপের জন্য তওবা এবং ক্ষমা চেয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে জমায়েত হয়েছেন। অনেক অঝোর কেঁদেছেন বলেছেন আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করে রহমতের বৃষ্টি দিয়ে আমাদের রক্ষা করেন।

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) 

চলমান তীব্র তাপদাহের কারণে প্রচণ্ড গরম আবহাওয়া প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে মানব ও প্রাণীকুলের চলাচলে জীবন অতিষ্ট হয়ে পরেছে। তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তৌহিদী জনতার আয়োজনে বৃষ্টির প্রত্যাশায় ইসতিসকার নামাজ আদায় করা হয়েছে। নামাজ ও খুদবা শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা সরকারি কাজী মাহাবুবউল্লাহ কলেজ মাঠে খোলা আকাশের নিচে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এতে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ইসতিসকার নামাজে অংশ নেন।

নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন তারাইল এস আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মো. আনোয়ার হোসাইন। আগের দিন বুধবার বিকালে উল্লেখিত সময়ে বৃষ্টির আশায় ইসতিসকার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে মাইকিং করে জানান আয়োজকরা।

মাওলানা মো. আনোয়ার হোসাইন  জানান, কোরআন-হাদিসের আলোকে যতটুকু জানা গেছে, মানুষের সৃষ্ট কোনো পাপের কারণে মহান আল্লাহ এমন অনাবৃষ্টি ও খরা দেন। বৃষ্টি না হলে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সাহাবীদের নিয়ে খোলা ময়দানে ইসতিসকার নামাজ আদায় করতেন। এজন্য তারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে তওবা করে ও ক্ষমা চেয়ে ২ রাকাত নামাজ আদায় করে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

নামাজে অংশগ্রহণ করতে আসা পার্শ্ববর্তী এলাকার মুসল্লি মমিন কাজী (৬৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টির কারণে মানুষ, পশুপাখি গাছপালাসহ সবাই খুব কষ্টে আছেন। এজন্য তারা বৃষ্টির আশায় নামাজ আদায় করতে আসছে। সৃষ্টিকর্তা চাইলে সবকিছুই সম্ভব। আমরা মানবজাতি যতই কঠিন হইনা কেন? তিনি মহান, তার মহানুভবতায় আমরা এ সংকট থেকে পরিত্রাণ পাবো ইনশাল্লাহ। 

ফরিদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আসেপাশে  থাকছে ফরিদপুর জেলার তাপমাত্রা। ফরিদপুর জেলায় প্রায় এক মাস ধরে বৃষ্টিপাত হয়নি। এ ছাড়া আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান।

জয়পুরহাট

সারাদেশের মতো জয়পুরহাটেও অব্যাহত রয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এদিকে গরম থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির জন্য ইস্তেখারার নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার কড়ই নূরুল হুদা কামিল মাদ্রাসার মাঠে এই নামাজ আদায় করা হয়।

নামাজে ইমামতি করেন কড়ই নূরুল হুদা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রহমান সরকার। নামাজের পর খুৎবা পাঠ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন তিনি। মহান আল্লাহর কাছে দীর্ঘ মোনাজাতে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)

সূর্যের আলোর প্রখরতা, তীব্র দাবদাহে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। হয়েছে আবহাওয়ার পালাবদল। তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ভোগনগর ইউনিয়নের রহিম বখস্ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বৃষ্টির আশায় সালাতুল ইস্তেসকার নামাজ ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৪) সকাল সাড়ে দশটার সময় ইস্তেসকার নামাজ অনুষ্টিত হয়। বীরগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ মিরাজ রহমান নামাজে ইমামতি করেন। এতে শতাধীক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। গত এক মাস আগেও বীরগঞ্জের যেখানে তাপমাত্রা ছিলো ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে। মাস খানেক পরেই সেখানে বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৩ এর কোঁঠায়।

তীব্র রোদ আর ভ্যাবসা গরমে অস্থির জন-জীবন। বৃষ্টি না হওয়া স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এই গরমে দেখা দিয়েছে খড়তা। বৃষ্টি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। অপর দিকে নষ্ট হচ্ছে গাছের ফল। কিছু অঞ্চলে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকে ঠিকমত উঠছে না পানি।

ভোগনগর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান রাজিউর রহমান রাজু বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে অনাবৃষ্টি ও তীব্র দাবদাহের কারনে জন-জীবন কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। পশু-পাখী, গাছ-পালা সহ সকলের জন্য অত্যন্ত পানি প্রয়োজন হওয়া আমরা এলাকার যুবকরা মিলে সালাতুর ইস্তেসকার নামাজের আয়োজন করি।’

হাসিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে খোলা ময়দানে ইস্তেসকার নামাজ আদায় করেছি। অনাবৃষ্টির ফলে তীব্র গরমের কারণে শিশু, বৃদ্ধ, পশুপাখি সকলে কষ্টে জীবনযাপন করছে। রোজাদারদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। গরমের কারণে বাচ্চারা পড়ালেখায় মন বসাতে পারছে না। বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’

হাফেজ মো: জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘রাসূল (সাঃ) অনাবৃষ্টি ও দূর্ভিক্ষের জন্য সাহাবীদের নিয়ে খোলা ময়দানে ইস্তেসকার সালাত আদায় করেছিলেন। নবী রাসূলের সুন্নাত কে আকড়ে ধরার জন্য বর্তমান বাংলাদেশে অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছে। আমরা খোলা মাঠে সালাতুল ইস্তেসকা নামাজ আদায় করেছি।’

সালাতুল ইস্তেসকার নামাজ ও বিশেষ মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন ভোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ এলাকার সকল মুসল্লিগণ।

নামাজ শেষে বৃষ্টির আশায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় মুসল্লিরা কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে বীরগঞ্জ উপজেলাসহ পুরো বাংলাদেশে বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দোয়া করেন।

পত্নীতলা ( নওগাঁ)  

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়েছে চারদিকে। মাঠের ফসলি জমি শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় নওগাঁর পত্নীতলায় বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ (সালাতুল ইসতিসকা) আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নজিপুর পাবলিক মাঠে প্রায় শতাধিক মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করা হয়।

মোনাজাতের আগে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শীতল আবহাওয়া ও বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন পত্নীতলা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।

নামাজের ইমাম ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মো: আব্দুল মুকিম। তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় হাহাকার চলছে। এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনসহ আনুগত্য প্রকাশে এই নামাজ আদায় ও দোয়া মোনাজাত করা হয়। আল্লাহ যেন রহমত নাযিল করেন, এটিই আমাদের উদ্দেশ্য। 

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট)

বৈশাখের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি।  জনজীবন হয়ে পড়েছে  বিপর্যস্ত । এক ফোটা পানির জন্য ওষ্ঠাগত মানুষ ও পশুপাখির জীবন। হুমকির মুখে সব্জি, অর্থকরী ফসল,  ফল ও ফসলি জমি। এই অসহনীয়  তীব্র তাপাদহে বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষের  মাঠে ঘাটে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এই খরা ও তাপাদহ থেকে পরিত্রাণ ও বৃষ্টির  জন্য চোখের পানি ফেলে মহান আল্লাহর দরবারে তওবা, ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া করেছেন  সহস্রাধিক মুসল্লি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পাঁচবিবি ওলামা পরিষদের আয়োজনে  উপজেলার বড় মানিক ঈদগাহ মাঠে ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহম্মদের  ইমামতিতে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে একই দিন পৌনে ১০ টায়  উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের কোতোয়ালীবাগ ফুটবল মাঠে রাধাবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক   মাওলানা মীর শহীদ মন্ডলের ইমামতিতে ইসতিসকার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বৃস্টির জন্য শত শত মানুষ উপস্থিত হয়ে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে  বৃষ্টি কামনা  করে তওবা ও দোয়া করেন।

নীলফামারী (কিশোরগঞ্জ)

দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচণ্ড তাপদাহে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন।বৈশাখের কড়া রোদের দাপটের কারণে নানান রকমের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এই জনপদের মানুষ। বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে ‘ইস্তিস্কার নামাজ’ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ইস্তিস্কার নামাজ। এতে সর্বস্তরের মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। নামাজে ইমামতি করেন- বাইতুন্নুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রশিদ।

এ সময় খতিব আব্দুর রশীদ বলেন, কোরআন-হাসিদের আলোকে যতটুকু জানা গেছে, তা হলো মানুষের সৃষ্ট পাপের কারণেই মহান আল্লাহ এমন অনাবৃষ্টি ও খরা দেন। বৃষ্টিপাত না হলে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাহাবিদের নিয়ে খোলা ময়দানে ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করতেন। সে জন্য তারা মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপের জন্য তওবা করে এবং ক্ষমা চেয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছেন।

ইস্তিস্কার নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে চোখের পানি ফেলে ফেলে বৃষ্টি কামনায় ফরিয়াদ করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

বদরগঞ্জ (রংপুর)

বৃষ্টির জন্য রংপুরের বদরগঞ্জে সালাতুল ইসতিসকার আদায় করা হয়েছে। বদরগঞ্জের যুবসমাজের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বদরগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এই নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বেশি কষ্টে আছেন জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষ। চলমান এই তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে এবং বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ সালাতুল ইসতিসকার আদায় ও মোনাজাত করা হয়।

নামাজ ও দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন ১৩ নং রেল ঘুন্টি জামে মসজিদের ইমাম শাহিনুর ইসলাম । নামাজ ও দোয়া মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা সহ উপজেলার সকল ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষ।

নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেতে বৃষ্টি চেয়ে কান্নাকাটি করেন মুসল্লিরা। ইমাম মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এ অবস্থায় আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা নিরুপায়। তাই গরম থেকে মুক্তি পেতে বৃষ্টির আশায় নামাজ আদায় করেছি। নামাজ শেষে আমরা মহান আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে কান্নাকাটি করেছি।

গাইবান্ধা

গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুল মাঠে দুপুর ২টায় তীব্র তাপদাহ থেকে মুক্তি ও বৃষ্টির জন্য দোয়া করে সালাতুল ইস্তিসকার দুই রাকাত নামাজ আদায় করা হয়েছে ।  

গাইবান্ধা সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ এই ইস্তিসকার নামাজের আয়োজন করে। এই নামাজে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এর আগে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ নামাজ সালাতুল ইস্তিসকার আদায় করেন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গোবিন্দগঞ্জ সরকারী কলেজ মাঠে এই নামাজ আদায় করা হয়। বিশেষ এই নামাজে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন। নামাজ শেষে খুতবা পাঠ ও পরে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন শ্রীমুখ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো: আব্দুস ছালাম নাটোরী।

এছাড়াও একই উপজেলার কাটাবাড়ী মাহমুদবাগ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও নাকাইহাট হাইস্কুল মাঠেও এই নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

সাতক্ষীরা

বৃষ্টি কামনায় ইসতিস্কার নামাজ আদায় করেছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত ইসলামের নেতৃবৃন্দরা। বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর শহরের মোসলেমা মসজিদ সংলগ্ন মাঠে এ নামাজ আদায় করা হয়।

সাতক্ষীরা জামায়াতের আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার নামাজের ইমামতি ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

নামাজে শত শত মুসল্লি এই নামাজে অংশ নেন। নামাজের পর করা বিশেষ মোনাজাতে অনাবৃষ্টি ও গরম থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আজিজুর রহমান, পৌর আমীর জাহিদুল ইসলাম, জেলা অফিস সেক্রেটারী রুহুল আমিন, নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু, পৌর সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, সহকারী সেক্রেটারী হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । সম্পাদক: 01703-137775 । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2024 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.