সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ৩ নং চারিকাঠা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দ্যা মেঘালয় টি এস্টেটের ইজারা বাতিলের দাবী সহ উক্ত এলাকায় বসবাসরত পরিবারের নামে স্হায়ী বন্দবস্ত প্রদানের দাবীতে ৩য় দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে একই দাবীতে গত ৫ই মে মানববন্ধন ও ৮ই মে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
শনিবার (১৭ই মে) বেলা ১১:০০ ঘটিকায় পাঁচ মৌজাবাসীর আয়োজনে চারিকাঠা ভিত্রিখেল শাহী ঈদগাঁ হতে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে চারিকাঠা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। মিছিল পরবর্তী সময়ে দ্যা মেঘালয় টি এস্টেটের ইজারা বাতিল ও উক্ত এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে স্হায়ী ভূমি বন্দোবস্তের দাবীতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে স্হানীয় মুরুব্বি শামসুল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক আলতাফ হোসেন বিলাল।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ৩ নং চারিকাঠা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহআলম চৌধুরী তোফায়েল, ইউপি সদস্য মনির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম, মাওলানা আবদুল খালিক,তাজুল ইসলাম, মখলিসুর রহমান, কবির আহমেদ, আমির আলি মেম্বার সহ অন্যান্যরা। সমাবেশ শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবদুল মালিক।
এ সময় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পাঁচ মৌজার মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে জারীকৃত অবৈধ ইজারা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
তারা বলেন ইতিমধ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ পরবর্তী আন্দোলন চলমান রয়েছে। গত ১৪ই মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমি উপদেষ্টা আলি ইমাম মজুমদার এর নিকট চারিকাঠা পাঁচ মৌজাবাসীর পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি তার দপ্তরে উপস্থিত হয়ে দরখাস্ত প্রদান করেছে।
বর্তমানে পাঁচমৌজাবাসীর একটাই দাবী দরখাস্ত প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়। বক্তব্যে তারা আরো বলেন, ভূমি মন্ত্রনালয়ের একটি প্রতিনিধি দল যেন চারিকাঠা এলাকায় আসে। যেন উক্ত এলাকায় বসবাসরত পরিবার গুলোর বিষয়ে তাদের ধারণাগুলো স্পষ্ট হয়। এই এলাকা মানুষের বসবাসের উপযোগী কোন টি এস্টেটের জন্য নয়।
নিজ এলাকায় কোন পরিবার ভূমিহীন কিংবা রোহিঙ্গাদের মত বেঁচে থাকতে চায় না। এ সময় বক্তারা উপদেষ্টা বরাবর দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের ভিতরে সংকট সমাধানের আহবান জানান।
অন্যথায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় যেকোন কঠোর কর্মসূচি দিতে পাঁচমৌজাবাসী প্রস্তুত রয়েছে। চলমান এই আন্দোলন প্রয়োজনে চারিকাঠা এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো উপজেলার মানুষকে সাথে নিচে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন বক্তারা।