হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামে বলাই খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ হলেও সংযোগ রাস্তার উভয় পাশে মাটি ভরাট হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ব্রীজে উঠে পারাপার হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ব্রীজের সংযোগ সড়ক ও মাটি ভরাটে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার ৯নং নিজামপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অর্ন্তগত কান্দিগাঁও গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা বলাই খালের দক্ষিণ পাশে সুজাতপুর ও উত্তর পাশে ছোটজয়রামপুর। দুইটি গ্রামের মাঝখানে বলাই খালের উপর উপজেলা প্রকল্প কার্যালয় হতে ‘ব্রীজ কালভার্ড প্রকল্পের আওতায়’ ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে গত জানুয়ারী মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে ব্রীজের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাকী আছে শুধু ব্রীজের উপরে দুইপাশের রেলিং, রঙ এবং সংযোগ রাস্তা। তবু মানুষের প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ব্রীজে ওঠে পারাপার হতে হচ্ছে।
এলাকার বয়বৃদ্ধ আব্দুস সালাম বলেন, ব্রীজের দুইদিকে মাটি ভরাট না করায় উত্তরপাশে আব্দুল হামিদের ঘর ভেঙ্গে পড়ছে, অন্যদিনে করবস্থান ভেঙ্গে খালে চলে যাচ্ছে। তাই ব্রীজের দুইপাশে দ্রুত মাটি ভরাটের দাবি জানাই।
ব্রীজের উত্তর অংশের বাসিন্দা রোজি আক্তার বলেন, ব্রীজ নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে তার বসতঘরের একপাশ ভেঙ্গে জায়গা দেওয়া হয়েছে কাজ শেষে ভরাট করে দেওয়ার শর্তে। এখন পর্যন্ত বসতঘরের ভেঙ্গে ফেলা অংশ ভরাট করা হয়নি। ফলে বৃষ্টিতে বসতঘর ধসে পড়ার ভয়ে আসবাপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাত্রীযাপন করতে হয় অন্যত্রে। দ্রুত ভাঙ্গা স্থান মেরামত ও ক্ষতিপুরণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ব্রীজের সাথে সংযোগ রাস্তা না হওয়ায় গ্রামবাসীর চলাচলে মারাত্মক ব্যঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। শিশুরা স্কুলে, বয়স্করা মসজিদে যেতে পারছেন না। তাই ব্রীজের সংযোগ রাস্তা দ্রুত এবং আব্দুল হামিদের বসতঘরের ভাঙ্গা অংশ মাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য দাবি জানাই।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাদ বিন জাহাঙ্গীর বলেন, ব্রীজ কালভার্ড প্রকল্পের আওতায় বলাই খালের উপর রেজ্জাক মিয়া ও আব্দুল হামিদের বাড়ীর পাশে ব্রীজটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হয়নি, আর ব্রীজের উত্তরপাশে আব্দুল হামিদের বসতঘরের ভাঙ্গা অংশ দ্রুত মেরামত করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।