ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
রাজশাহীতে বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) বীজ ডিলারদেরকে সার ডিলারে উন্নতিকরণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান নিয়ে উঠেছে নানাকথন।
কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি না দিয়ে মবস্টাইলে কয়েকশ বীজ ডিলার/ব্যবসায়ী নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আকস্মিকভাবে রবিবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১ টায় হাজির হয়েছিলেন নগরীর রেলগেটস্থ কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালকের কার্যালয়ে।
কৃষকদের স্বার্থকে ঢাল করে উক্ত মানববন্ধনে গরীব কৃষকের তুলনায় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। যদিওবা, বিএডিসি ডিলার এসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মাহাফুজুল হাসনাইন হিকোলের দাবি উক্ত মানবন্ধনে উপস্থিত ছিল প্রায় চারশর মতো কৃষক। আর ডিলার ছিলেন প্রায় আড়াইশ জন। কিন্তু বাস্তবচিত্র ছিলো ঠিক তার উল্টো। তাদের দাবির বিষয়টিও ছিল অনেকটাই অনৈতিক বলে মন্তব্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার।
এবিষয়ে জানতে চাইলে খামারবাড়ির একজন অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বীজ ডিলাররা কোন প্রকার পূর্বানুমতি না নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবগত না করে কয়েকশ লোকজন নিয়ে কেনো আমাদের কার্যালয়ের ভেতরে এসে মানববন্ধন করলেন এবং জোড়পূর্বক তাদের স্মারকলিপি গ্রহণে বাধ্য করলেন সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। তাদের উচিত ছিল নগরীর তেরোখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত বিএডিসি (কৃষি ভবন) উপপরিচালক (বীবি) এর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি ও নিজেদের দাবিদাওয়া জানানো প্রদান করা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, বীজ ডিলার থেকে সার ডিলারের তালিকায় নাম লিখাতে হলে সেটির নির্দিষ্ট একটি প্রসিডিউর ও ক্রাইটেরিয়া আছে। বীজ ডিলারদের ব্যবসায়ীক পারফরমেন্স, সুনাম ও খ্যাতির উপর নির্ভর করে বীজ থেকে সার ডিলার হবার জন্য। এছাড়াও আছে বিএডিসির চাহিদাপত্রের বিষয়টিও।
কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন তার এখতিয়ারভুক্ত অঞ্চলে কৃষকদের মাঝে সার বন্টন বা বিতরণে আরো বেশিসংখ্যক ডিলার প্রয়োজন; তাহলে যথাযথ নিয়মে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদিত কাগজপত্র যাচাই বাছাই সাপেক্ষে নতুন করে সার ডিলার নিয়োগ দিতে পারবেন। এটাই হলো নীতিমালা। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই কর্তৃপক্ষের। আশি শতাংশ সার বেসরকারিভাবে বিতরণ বা বিক্রয় করা হয়ে থাকে। মাত্র বিশ শতাংশ সার বিএডিসির মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।
বীজ ডিলার সভাপতি হিকোলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আপনারা উপপরিচালক কিংবা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি না দিয়ে কেনো প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাকে দিলেন। প্রতুত্তরে তিনি বলেন, ডিডি স্যার আমাদের সাথে দেখা না করেই চলে গেছেন।
ডিডি স্যার নাকি বীজ ডিলারদের সাথে দেখা না করেই কার্যালয় ত্যাগ করেছেন; বী ডিলারদের এমন অভিযোগের প্রত্যুত্তরে কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তেমন না। প্রকৃত বিষয় হলো, যারা স্মারকলিপি দিতে কার্যালয়ে এসেছিলেন তাদেরকে আমরা বারবার বলেছি, আপনাদের এইধরণের দাবি-দাওয়া ও স্মারকলিপি প্রদানের উপযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এটি নয়; আপনারা তেরখাদিয়া কার্যালয়ে গিয়ে আপনাদের দাবি উপস্থাপন করেন। উনারা আমাদের কথা অমান্য করে একপ্রকার জেদ ধরেন।
তাদের জেদের প্রেক্ষিতে আমরা স্মারক লিপি নিতে বাধ্য হই। তাদেরকে আরো বলা হয়, ডিডি স্যারের মিটিং আছে আপনারা স্মারকলিপি দিলে এখনি দিয়েদেন। কিন্তু তারা গণমাধ্যমকর্মীদের আসার অপেক্ষায় মানববন্ধন করে কালক্ষেপন করেন।
ডিডি স্যার তাদের জন্য অনেক্ষণ অপেক্ষা শেষে মিটিংয়ের কারণে অফিস ত্যাগ করেন। পরিশেষে তারা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তার হাতে স্মারকলিপি দিয়ে খামারবাড়ির সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে আবারো কিছুক্ষণ উপস্থিত বক্তৃতা ও দাবিদাওয়া নিয়ে শ্লোগান দেন। বিষয়গুলো সর্বপরি অপ্রাসঙ্গিক।
হঠাৎ করে কয়েকশ বীজ ডিলার একত্রিত হয়ে কার্যালয়ে এসে বললেন আমরা স্মারকলিপি দেবো। বিষয়টি একধরণের মবতুল্য কর্মকান্ড। অন্যকোন কার্যালয় হলে কর্তৃপক্ষ এইধরণের অপ্রাসঙ্গিক কর্মকান্ডের বিপরীতে স্থানীয় পুলিশ প্রসাশনের সহোযোগিতা চাইতেন। কিন্তু আমরা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেখানে কর্মরতরা বলেন, তারা যেভাবে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন, তাতে করে খামারবাড়িতে কর্মরতদের মাঝে একধরণের ভীতিকর পরিস্থিতি কাজ করছিলো। দেখে মনে হচ্ছিলো, তারা যেনো মব সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছেন। তবে, কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে না ঘটলেও কর্মকর্তারা বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
মানববন্ধনে ব্যবহৃত বিশালাকার ব্যানারের দাবি ও কথার সাথে স্মারকলিপির বিষয়বস্তুতেও নেই কোন মিল। ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লিখা হয়েছে “প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে রাসায়নিক সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে সকল বৈষম্য দূরীকরণে অবস্থান ও স্মারকলিপি পেশ”। ব্যানারে এমনটা লিখা থাকলেও, প্রদানকৃত স্মারকলিপির বিষয়বস্তুর শিরোনামে লিখাছিল ‘সকল বিএডিসি বীজ ডিলারকে সার ডিলারে উন্নতিকরণ এবং ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সহ সকল রাসায়নিক সার বরাদ্দ ও বিপননে বৈষম্য দূরীকরণ প্রসঙ্গে’। স্মারক লিপিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি উপদেষ্টা বরাবর প্রেরণের জন্য দেয়া হয়েছিল।
স্মারকলিপি ও মানববন্ধনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকার বিসিআইসি ডিলারদের মাধ্যমে বিএডিসি’র রাসায়নিক এবং ইউরিয়া সহ সরকারী ভাবে আমদানিকৃত সকল রাসায়নিক সার বিক্রয় করছে, যা একক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে কৃষকের স্বার্থ জ্বলাঞ্জলী দিয়ে বিভিন্ন সময় “সার সিন্ডিকেট” গড়ে তুলেছে। সার সিন্ডিকেট গড়ে উঠার কারণে অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে কালোবাজারে অধিক মুল্যে কৃষকরা সার ক্রয় করছে। যা সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা অবগত হই।
একমাত্র বিএডিসি’র বীজ ডিলারগণ প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের সাথে সম্পৃক্ত থাকায়, তাদের মাধ্যমে সার বিপনন করলে কৃষকরা উপকৃত হবে। যে কারণে বিএডিসি’র বীজ ডিলারগণকে সার ডিলারে রূপান্তরিত করা জরুরী প্রয়োজন। বিএডিসি ডিলারগণের মধ্যে সকল উৎস থেকে (ইউরিয়া, নন-ইউরিয়া, সরকার উৎপাদিত ও আমদানীকৃত) সার বিপনন করলে প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি হবে এবং কৃষকরা নায্যমূল্যে সার ক্রয় করতে পারবে বলে মন্তব্য বীজ ডিলারদের।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
