আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রার জোবায়ের হোসেন কর্তৃক নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে দলিল লেখক সমিতি কলম বিরতি পালন করছে। গত রোববার থেকে দলিল লেখকদের কলম বিরতি চলছে। সাব-রেজিস্ট্রারের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা সাধারণ মানুষের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যেকোনো মুহূর্তে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণ মুখর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বমহলে বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। এদিকে আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতি লাগাতার কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়েছে। আনোয়ারার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাব-রেজিস্ট্রার জোবায়ের হোসেন আনোয়ারায় যোগদান করেন। তার যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে। দলিল লেখকসহ জমির ক্রয় বিক্রেতারা বিপাকে পড়ে। দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালেও আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রার কোনো কিছুই পাত্তাই দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ফি ছাড়াও জমি রেজিস্ট্রারিতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসবের বিরুদ্ধে আনোয়ারা উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কলম বিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে। গত রোববার থেকে দলিল লেখক সমিতির কলম বিরতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জমি রেজিস্ট্রি হচ্ছে না। সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। জমি বিক্রি করতে না পারায় সাধারণ মানুষও ফুঁসে উঠছে। আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতির পক্ষ থেকে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দাবিতে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। লাগাতার কর্মসূচি মধ্য দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার অফিস অবরুদ্ধ করার কর্মসূচিও হাতে রয়েছে। আনোয়ারা দলিল লেখক সমিতি দফায় দফায় ঘরোয়া বৈঠক করছে। বৈঠকে নানান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিলের দিকে এগোচ্ছে। দলিল লেখক সমিতি ও সাব-রেজিস্ট্রার এর মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সদস্য সচিব মো. ইব্রাহিম মুন্সী জানায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে জমি রেজিস্ট্রিতে সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। ফলে দলিল লেখক সমিতির ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মুখীন। আমরা জমির ক্রয় বিক্রেতাদেরকে সদুত্তর দিতে পারছি না। আমরা গত ছয় দিন ধরে কলম বিরতি পালন করছি। অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে বড় আকারের কর্মসূচি নেওয়া হবে।
এদিকে আনোয়ারা সাব-রেজিস্ট্রার জোবায়ের হোসেনকে মুঠোফোন কল দিলে রিসিভ করেনি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম জেলা সাব রেজিস্ট্রার জামিরুল রহমান জানায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।