× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

কক্সবাজার উপকূলে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম কোস্টগার্ড

কক্সবাজার প্রতিনিধি

২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:১৮ পিএম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) বর্তমানে কন্ট্রাক্টে কোন অভিযান পরিচালনা করছেন না। গতকাল ২২ অক্টোবর (বুধবার) কক্সবাজার এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন কক্সবাজার র‌্যাব- ১৫ লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তিনি বলেন, র‌্যাব ভালো হয়ে গেছে। এখন আর আগের মত কন্ট্রাক্টে অভিযানে যায় না র‌্যাব। সুনামে ছড়িয়েছে ইতিমধ্যে। 

র‌্যাবের শীর্ষ এ কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে ক্রাইমজোন মহেশখালী দ্বীপসহ কক্সবাজার জেলাব্যাপী সর্বমহলে ইতিবাচকভাবে আলোচনায় আসেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন র‌্যাবের আগের হিংস্র চরিত্র এখন আর দেখা যায়না। কিন্তু পূর্বেকার সময়ে র‌্যাবের গাঁয়ে যে চরিত্রের কলঙ্ক ছিল তা এখন ভর করেছে কোষ্টগার্ডের ওপর। ফলে জুলাই আন্দোলনের পর উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে চলা ৩টি নাটকীয় অভিযানে চরম বির্তকে তোপের মুখে পড়েন উপকূলের স্বার্থ রক্ষী এ বিশেষ বাহিনী।  

তথ্য বলছে -গত ২০২৪ সালের বুধবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ঝাপুয়া সন্ত্রাসীদের পাকড়াও নামে এক নাটকীয় অভিযান মঞ্চত করে কোস্টগার্ড। এতে কোন প্রকৃত ও দাগী আসামিদের আইনের আওতায় আনতে না পারলেও অভিযানের ব্যর্থ সফলতা দেখাতে ৩ নিরহ ব্যবসায়ীকে আটক করে। একটি অদৃশ্য সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে কোষ্টগার্ডের সে সময়ের কতিপয় কর্মকর্তা আঁতাত করে অস্ত্র দিয়ে তাদের চালান দিয়ে কারাগারে নিক্ষেপ করে।  

জানাগেছে,  কোস্টগার্ডের হাতে অবৈধ গ্রেপ্তারের শিকার ৩ ব্যবসায়ী ছিলেন আপন ভাই। তারা হলেন ব্যবসায়ী আজগর সওদাগর, রুবেল ও রিদোয়ান। এ ৩ তিন ব্যবসায়ী কোস্টগার্ডের রোষানলের শিকার হলে তাৎক্ষণিক ক্ষোভে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। গ্রেপ্তারের পরের দিন এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে কোস্টগার্ডের অবৈধ অভিযান ও নিরহ ব্যবসীয়দের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে।  কোস্টগার্ড মুলত বির্তকের তোপে পড়েন নিরহ ব্যবসায়ীদের অবৈধ গ্রেপ্তার ও অস্ত্রধারী এলাকার পলাতক আওয়ামীলীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ে অভিযান চালানোর কারণে। 

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, নিরহ ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করেই ক্ষান্ত হয়নি বিশেষ এ বির্তকিত বাহিনী। তারা জুলাই আন্দোলনে নিহত চট্টগ্রামের ২য় শহীদ মহেশখালীর এক মাত্র শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ঘরে ব্যাপক লুটপাটযজ্ঞ চালান। এসময় এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অনেক দুর্বল মনের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী -পুরুষ গুলির শব্দে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে অভিযান চলাকালে আওয়ামীলীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের সোর্সখ্যাত দাগী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে চুর্থরমুখী অভিযান শুরু করে কোস্টগার্ড। এসময় বেপরোয়াভাবে চালানো কোস্টগার্ড গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোহাম্মদ শাহ ঘোনা থেকে চিকনি পাড়া পর্যন্ত গেলে সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শফিউল আলম নামে চিকনি পাড়ার এক যুবক। 

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল গভীর রাতে কোস্টগার্ডের ৩য় বির্তকিত অভিযান চলে মোহাম্মদ শাহ ঘোনাসহ শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর পরিবার ও বিএনপি সমর্থিত খউস্বর পাড়া এলাকায়। সে অভিযানেও এলাকার আওয়ামীলীগের দাগী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরকে অবৈধ অস্ত্রসহ কোস্টগার্ডের সাথে দেখা যায়।  ওই সন্ত্রাসীরা সোর্স হিসেবে কোস্টগার্ডের সাথে দায়িত্ব পালন করলেও ব্যক্তিগত ক্রোধে বিএনপি কর্মী ও মাছ ব্যবসায়ী আবু আহমদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে, বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কিভাবে সোর্সের ভূমিকা রাখে। মাছ ব্যবসায়ী আবু আহমদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে থেকে হত্যার দায়কে নেবে। কোস্টগার্ডের ৩টি বির্তক অভিযানে প্রকৃত কোন সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে নিরহদের হয়রানির অভিযোগ অহরহ। 

এছাড়াও উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের ৪র্থ মিশনে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে মোহাম্মদ শাহ ঘোনা শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর বীর নিবাস এলাকা ও টেকপাড়া এলাকায় গত ১৮ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর ১২টার দিকে টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নাটকীয় অভিযানে বিএনপি নেতা ও শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর বড় ভাই মৎস্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যরা জানান আমাদের গ্রামে এসে কোস্টগার্ড অভিযানের নামে তান্ডব চালিয়ে শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে অস্ত্র দিয়ে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।  

জানাগেছে, দ্বীপের কালারমারছড়া এসব অভিযানকালে বাংলাদেশ কোষ্টগার্ডের সাথে প্রকাশ্যে মহড়া দিয়েছে সোর্স নামধারী দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ছবিতে কয়েকজনকে দেশিয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিতে দেখা যায়। 

তবে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মহড়ায় ছিলেন ১০ থেকে ১৫ জন। মহড়ার পর থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কালারমারছড়া এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় গ্রেপ্তারকৃত অনেকে কৃষক ও মৎস্য পেশায় জড়িত। তারা বিগত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পলাতক আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের দেওয়া ষড়যন্ত্রমুলক মামলার আসামী হয়। তবে তারা শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর আপন-চাচা ও ভাই পেশাদার কোন সন্ত্রাসী নই বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। তাদের মুক্তির দাবীতে মহেশখালী-কক্সবাজার ২টি পৃথক সংবাদ সম্মেলন ও করেছেন ভোক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার কালারমারছড়ার পূর্বপাশে ফকির জুমপাড়া, গোলাইলার বাগান, নোনা ছড়ি, আঁধার ঘোনা ও মিজ্জির পাড়া পাহাড়ে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি অস্ত্রের কারখানায় কোষ্টগার্ড অভিযান না করে বার বার লোকালয়ে এসে বির্তকিত অভিযান করে হয়রানি করে আসছে সাধারণ মানুষকেও। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম খোকন নামে একজন জানিয়েছেন , কালারমারছড়ার মোহাম্মদ শাহ ঘোনাকে ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযানের নামে। 

এদিকে মোহাম্মদ শাহ ঘোনা দরবারের পাশে লোকালয়ে ২ জনের ধারালো  কিরিচের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় অনেকে জানান, প্রকৃত অর্থে এটি কোনো দুর্গম এলাকা নয়, এটি একটি গ্রাম- যেখানে বাড়ির পাশে মানুষ কৃষিকাজ করে। এখানে সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র,আইনজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিকবিদসহ সকল পেশার মানুষের বসবাস।  কেন মহেশখালীকে সন্ত্রাসীদের বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তা তারাই ভালো জানেন। মহেশখালীর একটি ইউনিয়ন কালারমারছড়া। সেখানে দুটো গ্রুপের মধ্যে বিরোধ যুগযুগ ধরে। তাদের সন্ত্রাসীরা সাধারণত পাহাড়ে অবস্থান নেয়। অভিযান দরকার ছিল কালারমারছড়া পাহাড়ে, লোকালয়ে নয়। তবে কোস্টগার্ড কালারমারছড়া পাহাড়ে ভ্রাম্যমান অস্ত্রের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ডের হারানে সম্মান ফিরিয়ে আনবেন এমনটি মনে করছেন মহেশখালীর সর্বস্তরের জনগণ। 

এছাড়া কোস্টগার্ডের বির্তকিত অভিযান বন্ধের জন্য বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানিয়েছেন শহীদ তানভীর ছিদ্দিকীর পিতা মোহাম্মদ বাদশাহ মিয়াক। তারা লোকালয়ে এসব অভিযান বন্ধের দাবী জানান। 




Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.