পার্বত্য চট্টগ্রামের খ্রিষ্টান সম্প্রদায় দেশপ্রেমিক এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও সার্বভৌমত্বে অটল। বহুদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে একটি খ্রিস্টান ধর্মের সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনোই কাম্য নয়। আজ শনিবার সকালে প্রেসক্লাবের সামনে “জোরপূর্বক খ্রিষ্টানকরণের মাধ্যমে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদ মানববন্ধনে এসব মন্তব্যে করেন বক্তারা।
এসময় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত পাহাড়ি নারীরাও হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, এতে লেখা ছিল - “পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করুন।” এতে বিভিন্ন খ্রিষ্টান চার্চের পাদ্রি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী ও যুবসহ বহুসংখ্যক ত্রিপুরা, বম ও খুমীসহ শতাধিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ে ধর্মালম্বীরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “পার্বত্য চট্টগ্রামে খ্রিষ্টানরা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র করছে” -এমন ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব মিথ্যা প্রচারণা পাহাড়ে বসবাসরত খ্রিষ্টান জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা, বিভাজন ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। বক্তারা দাবি জানান, এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আগের খ্রিস্টান ধর্মকে জানুন শিখুন। কারো ধর্মকে হেয়পন্ন করে তুচ্ছ করা ঠিক নয়। কেননা আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বানানো নামে কাউকে তকমা লাগিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রূপ নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই নাগরিকত্ব থেকে স্পষ্ট বলতে চাই অন্য ধর্মকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন বক্তারা।
এদিকে গত ২১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ডিমোর হোটেলের সামনে বিদেশী পর্যটকদের খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানো অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। এসময় বক্তব্যে বান্দরবানে ১৪টি জাতিগোষ্টিকে পাহাড়ি সেটেলার বলে আখ্যায়িত করেন এবং খ্রিষ্টান ধর্মকে হেয়পন্ন করে বক্তব্যে দেন নাগরিক পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লালজার লম বম, জন ত্রিপুরা, লেলুং খুমী, দীনেন্দ্র ত্রিপুরা। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।