× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

জুড়ীতে বিষটোপ খেয়ে ৩৩৫ হাঁসের মৃত্যু

খোর্শেদ আলম, জুড়ী (মৌলভীবাজার)

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে এক খামারির হাঁসের খামারে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। জলমগ্ন জমিতে খাবার খেতে নেমে একসঙ্গে মারা গেছে ৩৩৫টি হাঁস। নিঃস্ব হয়ে পড়া খামারি চেরাগ আলী চোখের পানি সামলাতে সামলাতে বলেন, “এই হাঁসগুলাই ছিল আমার সম্বল। এত আদর যত্নে বড় করছি। বিষ খাইয়া হাঁসগুলা মরায় আমার সবশেষ হইয়া গেল।”

চেরাগ আলীর বয়স ৬৫। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি হাঁস পালন করছেন। তার খামারে দেশি প্রজাতির প্রায় ৫০০ হাঁস ছিল -এর মধ্যে কিছু নিয়মিত ডিম দিত এবং কিছু অচিরেই ডিম পাড়া শুরু করার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি হাঁসগুলোকে গ্রামের পাশের জলাবদ্ধ জায়গায় ছেড়ে রেখে বোরো ধানের বীজতলার কাজে দূরে যান। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন পানিতে ভাসছে অসংখ্য হাঁসের মৃতদেহ।

এলাকাটি ‘গোবিন্দপুরের জাওর’ নামে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর স্থানীয় মফিজ আলীসহ কয়েকজন এই জলাশয় ইজারা নিয়েছেন।

চেরাগ আলী জানান, জমির ধারে ছড়ানো ধানের দানা দেখে তার সন্দেহ হয়—হাঁসগুলো বিষমেশানো ধান খেয়েই মারা গেছে। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেদিন সব হাঁস তুলতে পারেননি। বাড়িতে আনার পর আরও কয়েকটি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি তেঁতুলের রস খাইয়ে সেগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

চেরাগ আলীর হিসাব অনুযায়ী, তার ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনায় তিনি জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

প্রতিবেশী ফয়জুর রহমান, আবদুস সামাদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শীতের শুরুতে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি এলেও গোবিন্দপুর জাওরে সাধারণত পাখি দেখা যায় না। তাঁদের ধারণা—পাখি নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই হাঁস নিধনের উদ্দেশ্যে বিষ ছড়ানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে, ইজারাদার মফিজ আলী দাবি করেন - তারা কয়েকদিন ধরে অন্য বিলে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চেরাগ আলীর ভাঙা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া পরিশ্রম আর অদৃশ্য শত্রুর বিষধান এখন গোবিন্দপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.