নগরীর নদী বন্দর সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণাধীন চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকার ভাসমান দোকান থেকে মাসে অর্ধালক্ষাধিক টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র শুল্কপ্রহরী পদে কর্মরত বহু অনিয়ম কর্মকান্ডের মূলহোতা মাইনুল কোন প্রকার সরকারী স্লিপ ছাড়াই চাঁদাবাজির এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শুল্কপ্রহরী মাইনুলের বিরুদ্ধে এরপূর্বেও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠলেও অজানা কারনে পার পেয়ে গেছেন। মূলত তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনে দিনে মাইনুল বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্টের পরে পুনরায় আবারো উপরস্থ অফিসারকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজি শুরু করেন। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ৫ আগস্ট দেশ স্বাধীন হলেও মাইনুলের অবৈধ চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি মেলেনি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, বরিশাল নদী বন্দরস্থ চরকাউয়া খেয়াঘাটের আশপাশে প্রায় ৫০-৬০টি ভাসমান অস্থায়ী ছোট ছোট দোকান রয়েছে। এগুলোতে কেউ চা, কেউ সবজি, কেউ আবার ফলমূল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ শুল্কপ্রহরী পদে কর্মরত মাইনুল তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে নীরবে চাঁদাবাজি শুরুকরে। তবে এ চাঁদা উঠানোর ক্ষেত্রে মাইনুল সতর্কতা ও কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি নিজে দোকানে দোকানে না গিয়ে বহু অপকর্মের হোতা ও বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা মাসুম তার সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমে খেয়াঘাটের ভাসমান দোকান থেকে চাঁদা তুলে নেয়ার সুযোগ তৈরি করেন। এরই প্রেক্ষিতে মাসুম তার লোক দিয়ে টালি খাতায় লিপিবদ্ধের মাধ্যমে দোকান প্রতি ৩০-৫০ টাকা হারে চাঁদা তুলে। পরবর্তীতে মাস শেষে মাইনুল তাদের দুজনের থেকে মাসিক প্রায় চাঁদার অর্ধলক্ষাধিক টাকা বুঝে নেয়। তবে তাদের এই অবৈধ কর্মকান্ডে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ ভুক্তভোগী জনসাধারণ। তারা প্রশাসনের উপরোস্থ কর্মকর্তাসহ থানাতেও অভিযোগ জানান চাঁদাবাজির বিষয়ে। এর সাথে সাথে যারা চাঁদার টাকা তুলে তাদের ধরতে নিজেরাও মাঠে ওৎপেতে থাকে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, এভাবে সরকারি কোন নিয়ম কানুন ছাড়াই চাঁদা আদায় অবশ্যই অপরাধমূলক কর্মকান্ড। ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশে এটা কাম্য না। আমরা এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। পাশাপাশি এই মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাইনুল বলেন, মাসিক টাকা নেয়ার বিষয়টি নদী বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান স্যার জানেন। তার নির্দেশেই টাকা নিয়ে বন্দরের অভ্যন্তরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন তাদের বেতন দেয়া হয়। তবে এভাবে চাঁদা উঠিয়ে বেতন দেয়া সরকারি কোন নিয়মের মধ্যে আছে কি না জানতে চাইলে মাইনুল কোন উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর সাথে কথা বলতে বলেন। এ ঘটনায় বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি সরাসরি আসেন সামনাসামনি কথা বলবো বলে প্রতিবেদককে আমন্ত্রণ জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2025 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
