ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
জাইকার অর্থয়ানে অর্থায়নে মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী নতুন বাজার-সিকদার পাড়া সড়কের ড্রেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠার মেসার্স আরএফএল কোম্পানি কনস্ট্রাকশনের অনুকুলে কাজ নেওয়া সাব কন্টাক্টে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
এ প্রকল্পের নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সিডিউল অনুযায়ী বাস্তবায়িত এই ড্রেন প্রকল্পে নকশা ও বরাদ্দ অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিশেষ করে লোহার রড ব্যবহারে চরম গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্ধারিত পরিমাণ ও মানের রড দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় রড কম ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও রডের সঠিক কভার নেই, কোথাও আবার ঢালাইয়ের ভেতরে ফাঁক রয়ে গেছে, যা প্রকৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
জানাগেছে, উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার আজিজিয়া মাদ্রাসা থেকে সিকদার পাড়া পর্যন্ত চলমান ড্রেন নির্মাণ কাজকে ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জাইকার অর্থায়ানে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্টান আরএফএল কোম্পানি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের সময় নিয়মিত তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ড্রেন নির্মাণে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত রডের একটি অংশ গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর হাতে থাকা ছবিতে এসব অনিয়মের দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।
ড্রেনটির স্থায়িত্ব নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ও দায়সারা কাজ চলতে থাকলে ড্রেনটি দীর্ঘদিন টিকবে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে ড্রেন ধসে পড়তে পারে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে আশপাশের বসতবাড়ি ও সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, উন্নয়নের নামে এ ধরনের লুটপাট ও অবহেলা নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রতিবারই অভিযোগের পর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। ফলে একই অনিয়ম বারবার ঘটছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, এই কাজের মান যাচাই করার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কী ভূমিকা পালন করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে জড়িত ঠিকাদার, তদারকি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। এলাকাবাসীর স্পষ্ট বক্তব্য—দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এমন অনিয়ম বন্ধ হবে না।
মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইমরান মাহমুদ ডালিম এবিষয়ে কাজের গুনগত মান যাচাইয়ের জন্য খোঁজ নিবে বলে জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
