নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এই অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোনাব আলী, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শরিফ হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান জানান, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে কয়েক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে ভয়াবহ তাণ্ডবের সৃষ্টি হয়। এতে প্রায় ৫২৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে অতি ক্ষতিগ্রস্ত ১৬৯টি পরিবারকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা, মাঝারি ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৯টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা এবং স্বল্প ক্ষতিগ্রস্ত ২১৫টি পরিবারকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।