ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই আড়াইগুণ বেড়েছে নারিকেলের দাম। সপ্তাহখানেক আগেও যে নারিকেল দাম ছিল একশ টাকা, সেটা এখন আড়াইশ টাকা। রাজশাহীর বাজারে একজোড়া ভাল নারিকেলের দাম ৫০০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন ভারত থেকে এলসি`র মাধ্যমে নারিকেল বাংলাদেশে না আসার কারনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সিন্ডিকেট করেই পাইকাররা নারিকেলের দাম বাড়িয়েছে বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা বলেন, মাসখানেক ধরে ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে রাজশাহীতে নারিকেল আসছেনা। বরিশাল থেকে আনা নারিকেল ও পূর্ববর্তী চালানের ভারতীয় নারিকেল পাইকাররা মজুদ করে রেখেছিলেন। ভারত থেকে নারিকেল না আসার কারনে পাইকার ব্যবসায়ীরা মজুদ থাকা সেই নারিকেলগুলো এখন উচ্চমূল্যে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকার কারনেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী নগরীর শালবাগান বাজার, লক্ষিপুর কাচাবাজার, তেরখাদিয়া বাজার, তালাইমারি বৌ বাজার, সাগরপাড়া বাজার, কোর্ট বাজার, নিউমার্কেট কাচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫০০ টাকা জোড়াতে বিক্রি হচ্ছে নারিকেল। কোথাওবা ছোট ও কম মানের নারিকেল বিক্রি হচ্ছে চারশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা জোড়াতে। সপ্তাখানেক আগেও একই নারিকেল বিক্রি হয়েছে দুইশ থেকে দুইশ দশ বিশ টাকা জোড়ায়।
শীতের পিঠা তৈরির জন্য তালাইমারি বৌ বাজারে নারিকেল কিনতে আসা ক্রেতা শামীম, শালবাগান বাজারে আসা নারিকেল ক্রেতা মাহাবুব আক্ষেপ করে বলেন, শীত মৌসুম হলো বাঙ্গালীদের জন্য ঐতিহ্যবাহি পিঠের মাস। এই শীতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই চলে পিঠে উৎসব। যে যার পছন্দের পিঠে তৈরি করেন। ধুপিসহ অনেক পিঠাতেই দেয়া হয় নারিকেল। পিঠার স্বাদে ভিন্নতা আনতে নারিকেলের ব্যবহার অনেকটাই অপরিহার্য। কিন্তু, মধ্যবিত্ত আর নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এতো উচ্চমূল্য দিয়ে নারিকেল কেনাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের এই বিষয়ে একটু নজড়দারি বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সাধারণ ক্রেতারা।
ধুপি বিক্রেতা রোজি বেগম আক্ষেপ করে বলেন, দশ টাকার একটা ধুপিতে নারিকেল দিলে সেটার তৈরি খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার নারিকেল ছাড়া অধিকাংশ মানুষই ধুপি নিতে চাইনা। কোন কোন ক্রেতা ধুপিতে নারিকেল বেশি দিতে বলে, তখন বেশ বেকায়দায় পরতে হয়। দাম না কমলে ধুপিতে নারিকেল দেয়া বাধ্য হয়েই বন্ধ করতে হবে।
রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার মাস্টার পাড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী জলিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরিশাল, নোয়াখালি ও খুলনা থেকে রাজশাহীতে নারিকেল আসে। সেখানের বড় বড় আড়ৎদাররা এলসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নারিকেল মজুদ করে রাখতে শুরু করে। তারা সিন্ডিকেট করে মজুদ পরবর্তী সময়ে মজুদকৃত সেই নারিকেলগুলোই এখন উচ্চমূল্যে সরবরাহ করছেন। ভারত থেকে নারিকেল না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম বলেও জানান এই পাইকার।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
