× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খুলনা-১ আসনে রাজনৈতিক, কুটনৈতিকদের চোখ

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ফ্রন্ট দুইজন হিন্দু প্রার্থী দিয়ে আলোচিত

আবু সাঈদ কাদেরী, নারায়ণগঞ্জ

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৮ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মুসলিম অনুসারী বাদ দিয়ে হিন্দু সংগঠক কৃষ্ণ নন্দিকে মনোনয়ন দিয়েছে।ইসলামী ফ্রন্ট নির্বাচনে একই পন্হা অবলম্বন করে হিন্দু রাজনীতিক সুনীল শুভ রায়কে মনোনয়ন দিয়েছে।দুইটি ইসলামী দল দুইজন হিন্দুকে প্রার্থী করায় দেশব্যাপি আলোচনা পর্যালোচনা চলছে।খুলনা-১ আসনের দিকে বিদেশী কিছু সরকার, কুটনীতিক ও দেশীয় রাজনীতিকরা সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

মুসলমানদের নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমল ও পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদার সময় এবং তাবেঈ যুগে মুসলিম খলিফা কিংবা সরকার 

দুনিয়ার কোন রাষ্ট্রের অমুসলিম শাসককে সমর্থন দেয়নি। কোন অমুসলিম শাসককে খেলাফত বা আমীরী দেয়া হয়নি। পরবর্তী কোন ইসলামিক শাসক কোন প্রতিবেশী অমুসলিম রাষ্ট্র প্রধানকে বৈধতা পর্যন্ত দেয়নি।

ইসলামিক রাজনীতি মুসলমান সম্প্রদায় করবে - এটাই সাড়ে ১৪ শত বছরের রীতি হয়ে উঠেছে।

বিশ্বে ইসলামিক মতবাদের বাইরে ব্যক্তি মতবাদী দলে শত শত বছর আগ থেকে মুসলিম, অমুসলিম রাজনীতিক একটি বা ভিন্ন ভিন্ন দলের হয়ে রাজনীতি করার নজির রয়েছে। ব্যক্তি মতবাদের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি),  জাতীয় পার্টি ও আরো কিছু দলে মুসলিম- হিন্দু-বৌদ্ধ এবং অন্য ধর্মের নেতাকর্মীর একত্রে রাজনীতি করার ইতিহাস রয়েছে। ওই দলগুলো মুসলিম ছাড়াও নির্বাচনে অন্য ধর্মের নেতাকে মনোনয়ন প্রদান বা প্রার্থী করেছে এবং করছে।

দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক শৃংখলা কিছুটা ব্যতিক্রমি হয়ে উঠেছে। দেশের তিনশ সংসদীয় আসনের একটি খুলনা-১ আসন। ওই আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি,জাতীয় পার্টি ও অন্য দল প্রার্থী দিয়েছে।সেখানে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ প্রার্থী হিসেবে সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা ও সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের নেতা কৃষ্ণ নন্দির নাম ঘোষনা করে। বিষয়টি নিয়ে সমাবেশ, ক্লাব,চায়ের দোকান ও সংবাদপত্রে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক আলোচনা, সমালোচনা হয়।জামায়াতে ইসলামী ও দাড়ি পাল্লা প্রতিকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দিকে নিয়ে আলোচনা শেষ না হতে আরো একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট খুলনা-১ আসনে (দাকোপ- নাটিয়াঘাটা) ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সূনীল শুভ রায়কে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও মোমবাতি প্রতিকের প্রার্থী সূনীল শুভ রায়কে নিয়েও ব্যপক আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে।

খুলনার ওই আসনের কৃষ্ণ নন্দি এবং সূনীল শুভ রায়কে নিয়ে এরই মধ্যে অন্য ইসলামি দলের নেতারা ফতোয়া দিতে শুরু করেছে। ইসলামি নেতৃবৃন্দ বলছে, দেশের জাতীয় সংসদে ইতিপূর্বে খেলাফত আন্দোলন,জামায়াতে ইসলামী  এবং ইসলামী ঐক্যজোট নামক দল বা জোটের প্রতিনিধিত্ব ছিলো।ওই দলগুলোর কোনটাই বিগত নির্বাচনে কখনোই অমুসলিম কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। মুসলিম নেতৃবৃন্দ বলেছে, মুসলিম ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। ইসলামী রাজনৈতিক দলে হিন্দু প্রার্থী কুরআন- সূন্নাহর অবমাননা। নেতৃবৃন্দ বলছে, ইসলামী দলগুলো কুরআন- সূন্নাহর আইন বাস্তবায়ন করতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অথচ ইসলামী আইন বাস্তবায়নে বাধা, ব্যঘাত ঘটার জন্য কৃষ্ণ নন্দি এবং সূনীল শুভ রায় যথেষ্ট। ইসলাম ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ আরো কঠিন কঠিন ফতোয়া বা মতামত প্রকাশ করেছেন। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  প্রচার হচ্ছে। বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি ও আরো অন্য দলের কোন কোন নেতা হিন্দু প্রার্থীতার কারনে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ফ্রন্টের প্রতি বিরূপ মন্তব্য পোষণ করেন। ক্লাব কিংবা চায়ের দোকানেও বিষয়টি আলোচনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। চায়ের দোকান কিংবা ক্লাবে রাজনৈতিক সচেতন মানুষেরা দেশের সীমানার বাইরের একটি রাষ্ট্রের রাজনীতির সাথে ওই দুই প্রার্থীর যোগাযোগের কথাও বলছে। তারা দুইজনকে ভারতের এজেন্ট বলতেও পীছু হটছে না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই বিষয়টি ব্যপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।ফেসবুক বন্ধুরা পোষ্ট দিয়ে বা পোস্ট পেয়ে কড়া সমালোচনা করেছে। ফেসবুক বন্ধুদের অনেকে নেতা,দল বা প্রাথীর বিরুদ্ধে নোংরা ভাষার প্রয়োগ করছে। কেউ কঠিন দল ত্যাগ করার কথাও জানাচ্ছে। অপর দিকে ভারত ও পাকিস্তানের সরকার বা রাজনীতিকরা জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমের দিকে দৃষ্টি রাখছেন বলেও কথিত আছে। অসমর্থিত সূত্র বলেছে, ভারত ও পাকিস্তানী সংস্হাগুলো জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ফ্রন্টের রাজনীতি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অবস্হান বিষয়কে সম্পূর্ণ ভিন্ন মনে করছে। অথচ দুইটি ইসলামী দলে নীতিমালার বিপরীতে গিয়ে হিন্দু প্রার্থী দিয়ে কি করতে চায় - তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।দুই প্রার্থীকে ওই এলাকার ভোটারেরাও কিভাবে দেখছে,কিভাবে মূল্যায়ন করবে - তাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।ওই দুই প্রার্থীর কোন ক্ষতি হয় কি' না তাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূত্র বলেছে,খুলনার ওই আসনটিকে কুটনৈতিকরা স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.