নরসিংদীর খ্যাতিমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস'-এর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপে বাঁধা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টিসি (ছাড়পত্র) প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
সকালে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল করে তোলেন। মিছিলটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। জানা গেছে, ফরম ফিলাপের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছে।
মানববন্ধনে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, অত্যন্ত কঠোর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। যারা প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ বছর কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা করে প্রতি ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়ে আসছে, আজ এসএসসির চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে তাদের 'অকৃতকার্য' দেখিয়ে জোরপূর্বক টিসি দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, "স্কুল কর্তৃপক্ষ কেবল তাদের শতভাগ পাসের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখতে এই অমানবিক পথ বেছে নিয়েছে। কয়েক বছর ধরেই তারা দুর্বল তকমা দিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝপথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর চরম আঘাত।"
ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং স্কুলের এমন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ইমন হোসেনের কার্যালয়ে যান। তবে উপস্থিত সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখেই তিনি কৌশলে নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর এবং হোয়াটসঅ্যাপে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির মোল্লার বাসভবনে গেছেন। তবে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী সুমন মোল্লার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। টেস্ট পরীক্ষায় ৪৮৫ জনের মধ্যে অকৃতকার্য হয় ১৭৪ জন। ১৩৩ জন রিটেক পরীক্ষা অংশগ্রহণ করে ৬৭ জন উত্তীর্ণ হন।
ফরম ফিলাপের সময়সীমা ফুরিয়ে আসায় শিক্ষার্থীরা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছরের শিক্ষা জীবনের শেষে এসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। অভিভাবকরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন যাতে কোনো শিক্ষার্থী ফরম ফিলাপ থেকে বঞ্চিত না হয়।