রাঙ্গামাটি রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের নাইক্যছড়া আগাপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০তম ভদন্ত খেমাচারা মহাথের আচারিয়া (গুরু) পূজা মহানুষ্ঠান।
বাঙ্গালহালিয়া আগাপাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ কল্যাণ অনাথালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং মায়ানমার সরকার কর্তৃক “মহাসদ্ধর্ম জ্যোতিকা ধ্বজা” উপাধিতে ভূষিত পরম পূজনীয় গুরুভান্তে ভদন্ত খেমাচারা মহাথেরকে সম্মান জানাতে এই আচারিয়া গুরু পূজার আয়োজন করা হয়,
দায়ক-দায়িকাদের উদ্যোগে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে নাইক্যছড়া আগাপাড়া বৌদ্ধ বিহারে প্রতিবছরের ন্যায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত নাগিন্দ্যা ভিক্ষুসহ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলা থেকে আগত শতাধিক ভিক্ষু সংঘ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইচপ্রু মাস্টার, রাজস্থলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইসুইখই মারমা, বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ, ধর্মানুরাগী দায়ক-দায়িকাবৃন্দ ও অসংখ্য ভক্তবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, সংঘদান, ফুল পূজা, দানীয় সামগ্রী প্রদানসহ নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়। বিভিন্ন বিহারের দায়ক-দায়িকাগণ গুরু ভান্তেকে ফুল, অর্থ, পানীয় জল, ফলমূল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশনা প্রদানকালে পরম পূজনীয় ভদন্ত খেমাচারা মহাথের বলেন— গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ক জ্ঞানের আলোকে সমাজকে আলোকিত করে। ধর্মের মূল শিক্ষা হলো অহিংসা, মৈত্রী ও করুণা। এই শিক্ষাকে ধারণ করে সকল মানুষ যদি পরস্পরের প্রতি সহনশীল ও সহমর্মী হয়, তাহলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের কল্যাণ কামনা করে বলেন, “সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্ত—জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক, শান্তিতে বসবাস করুক।” শেষান্তে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে ১০তম আচারিয়া গুরু পূজা মহানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।