ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জলঢাকা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় প্রায় ৭ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পাউবো’র পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার তথ্য অনুযায়ী, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা পাল্টা দাবি করেছেন, এটি কোনো হামলা নয়; বরং তাদের পৈত্রিক তিন ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জলঢাকা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জলঢাকা থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। মামলা নং–৪-এ ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০০ জন এবং মামলা নং–৫-এ ২২ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৬৯১ জন।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ১ জানুয়ারি ২০২৬—এই দুই দিনে সংরক্ষিত এলাকায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অবৈধভাবে পাউবো’র জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং সরকারি উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতেই সহিংসতার পথ বেছে নেয়। এ সময় আনসার ক্যাম্প ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান দাবি করেন, এই হামলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের রেকর্ডভুক্ত জমিতেই সব নিয়ম মেনে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার কৃষক সেচ সুবিধার আওতায় আসবেন।
তবে স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, জলাধার খনন করা হলে তিন ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং ব্যারাজের উজানে হাজার হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষি উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হবে। তারা অভিযোগ করেন, কৃষকদের স্বার্থ উপেক্ষা করেই পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব স্বার্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
মামলার আসামি ও কৃষকদের প্রতিনিধি আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা কোনো হামলা করিনি। আমরা বাপ-দাদার আমলের প্রায় ৯৫৭ একর তিন ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছি।”
কৃষকদের দাবি, ১৯৬৮ সালে মৌখিকভাবে জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হলেও তা কখনোই আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে পাউবো ওই জমি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে কৃষকরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের আদেশে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক খননকাজ শুরু করতে চায়। প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকা ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনড়, অন্যদিকে শত শত কৃষক তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
