সাম্প্রতিক সময়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি ভোররাতে ধল্লা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক অজ্ঞাত চোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর ঠিক একদিন পর, শনিবার সাহরাইল বাজার সংলগ্ন গোপালনগর এলাকা থেকে দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল রোববার ভোররাতে ওই একই এলাকা থেকে আবারও ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা চালানো হয়। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বেপারী প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হলে চুরির বিষয়টি টের পান। তিনি চিৎকার দিলে চোরেরা ট্রান্সফরমার ফেলে পালিয়ে যায়। পরপর এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে ট্রান্সফরমার চুরির কারণে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। এতে দৈনন্দিন জীবনযাপন, কৃষিকাজ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহল মনে করছেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সিংগাইর জোনাল পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. গোলাম রাব্বানী ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, "বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে আমরা গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনা ও মাইকিং করছি। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।"
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে চোরেরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়দেরও আরও সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।