× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তীব্রশীতে বিপর্যস্ত উত্তরের জনজীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি :

০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৪ পিএম

ছবি : সংবাদ সারাবেলা।

সময়ের অদল-বদল আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে উত্তরের জনপদে ক্রমশই শীত ও শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জেলাগুলোর জনজীবন। অনেকেই ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন, ফলে থেকে যাচ্ছেন দিনভর ঘরের মধ্যেই।

জনপদগুলোর মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ক্রমেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। অঞ্চলগুলোর ছিন্নমূল মানুষেরা খুবই দুরাবস্থায় রয়েছেন। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উত্তরের জেলাগুলোতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ভোর ও রাতের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খেটে খাওয়া মানুষের কাজের সুযোগ কমে গেছে, কমেছে দৈনিক আয়ও। অনেক শ্রমজীবী মানুষ বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখছেন। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাত্র ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন রংপুরে ১১ দশমিক ৯, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৯, ডিমলায় ৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ দশমিক ৫, লালমনিরহাটে ১০ দশমিক ৫ এবং গাইবান্ধায় ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় কুয়াশা সহজে কাটছে না, এতে শীত আরো তীব্র হচ্ছে।

শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ আজিজুল বলছিলেন, দিনে যা আয় হয়, তাতে ঠিকমতো খাবার জোটানোই কষ্ট। নতুন শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। পুরনো একটা জ্যাকেট কিনেছি, সেটাই ভরসা। একই কথা বলেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকরাও। তারা বলছেন, শীত বাড়লেও আয় বাড়েনি, বরং কাজ কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর পাইকাররা পুরনো কাপড়ের দাম বেশি নিচ্ছেন। ফলে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পুরনো কাপড় আমদানির কোটা কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে, যার সরাসরি চাপ পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

শীতের তীব্রতায় অনেক মানুষ খড়কুটো, কাঠ কিংবা পরিত্যক্ত কাগজ জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটানো এখন সাধারণ চিত্র হয়ে উঠেছে রংপুর শহর ও আশপাশের এলাকায়।

আবহাওয়াবীদরা বলছেন, গত ডিসেম্বর মাসে এ অঞ্চলে অন্তত আট দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। জানুয়ারি মাসেও পাঁচ দিন সূর্যের আলো দেখা যায়নি। জানুয়ারি মাসে আরো দুই-তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যমান শীতের তীব্রতার তুলনায় সহায়তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। মানুষ তীব্র শীতের জন্য চলাফেরা করতে পারছে না। দ্রুত আরো কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। শীতে বিপর্যস্ত রংপুর অঞ্চলের মানুষ এখন প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের কার্যকর সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.