হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। এই তীব্র শীতে একটি কম্বল বা এক টুকরো গরম কাপড় যেন শীতার্ত মানুষের কাছে কেবল ত্রাণ নয়, বরং বেঁচে থাকার অবলম্বন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ সব সময়ই একটু বেশি থাকে। তবে এবার দিনের আলো ফোটার আগেই শুরু হওয়া কনকনে হিমেল বাতাস ভোগান্তি বাড়িয়েছে বহুগুণ। সূর্য ডোবার পর থেকে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গরম কাপড়ের অভাবে খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার পাশে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন সমাজের বেশকিছু ছিন্নমূল মানুষগুলো। মঙ্গলবার সকালে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। শীত নিবারণের ন্যূনতম উপকরণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় কুঁকড়ে শুয়ে রাত পার করছেন ভিক্ষুক, দিনমজুরসহ বেশ কয়েকজন অসহায় মানুষ।
শীতে জবুথবু ষাটোর্ধ্ব ভ্যানচালক আলম আক্ষেপ করে বলেন, “শীতে শরীর কাঁপে, ঠান্ডায় রাতে ঘুমাতে পারি না। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও হয়ত বাঁচতাম।” তাঁর এই আর্তনাদ যেন সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের বিবেকের কাছে এক বড়ো প্রশ্ন। শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর চিত্র আরও করুণ। দরিদ্র পরিবারগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে।
অন্যদিকে বড়ো কমপ্লেক্সেগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতের হাত থেকে বাঁচতে সামর্থ্যবানরা ভিড় করছেন বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। স্থানীয়দের মতে, কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও, স্বাস্থ্য সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা বিশাল চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো ত্রাণ তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। কুড়িগ্রামবাসীর আহ্বান তেমন দৃশ্যমান কাঁপানো এই শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনকে আরও এগিয়ে আসতে হবে।