পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন কুয়াকাটা পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় গলাকেটে তরুণী হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল আসামি নিহতের স্বামী মো. রিফাত (২১) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তিনি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশ কুয়াকাটা পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আরিফা আক্তার রিক্তা (১৮) নামের এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. খালেক হাওলাদারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২/০২, তারিখ: ০৬-০১-২০২৬) দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম মাঠে নামে।
তদন্তকালে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নিহতের স্বামী মো. রিফাতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে মহিপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি:
মো. রিফাত (২১), সাং-দক্ষিণ বাউরগাতী, থানা-পৌরনদী, জেলা-বরিশাল। জব্দকৃত আলামত: হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি (দাও) এবং নিহতের পরিহিত রক্তমাখা জামা-কাপড়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে আরিফার সঙ্গে এক সৌদি প্রবাসীর মোবাইল ফোনে বিয়ে হয়। পরবর্তীতে চার মাস আগে তিনি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মো. রিফাতের সঙ্গে কুয়াকাটায় চলে আসেন। রিফাত স্থানীয় একটি খাবারের হোটেলে চাকরি করতেন এবং তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বাসা ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত।
ঘটনার দিন বিকেলে কাজ শেষে বাসায় ফিরে রিফাতের সঙ্গে আরিফার ঝগড়া শুরু হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঝগড়া তীব্র হলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গিয়ে বাসার ভেতরে আরিফার গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে পুলিশে খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ফোনে কথা বলা নিয়ে শুরু হওয়া ঝগড়ার একপর্যায়ে বটি দিয়ে গলাকেটে আরিফাকে হত্যা করেন। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।