× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মুনেশ্বরী নদী থেকে বালু লুট' অভিযোগের তীর পুলিশ প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের দিকে

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৫ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

তীব্র গণ আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতন হলেও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর বালু লুট বন্ধ হয়নি। অভিযোগ উঠেছে সরকার বদলের সাথে সাথে বালু লুটের নেতৃত্বেও পরিবর্তন এসেছে। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন- বালু লুট বন্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও এতে সফলতা আসছেনা বরং দ্বিগুণ উৎসাহে যমুনেশ্বরী নদীর বালু লুট হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ প্রশাসনহ রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বালু লুটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। 

সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, যমুনেশ্বরী নদীর নাটারাম এলাকা থেকে শুরু করে নাগেরহাট ব্রিজ পর্যন্ত মোট ১৭টি পয়েন্ট থেকে বালু লুট করা হচ্ছে। এতে একদিকে ঝঁুকির মুখে পড়েছে আবাদী জমি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি। অপরদিকে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের একমাত্র যোগাযোগ রক্ষাকারী নাগেরহাট ব্রিজ। এছাড়া প্রতিদিন সরকার হারাচ্ছে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব। যমুনেশ্বরী বালু লুটের ইতিহাস ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে শুরু হলেও অন্তবর্তী সরকারের আমলেও তা’ থেমে নেই। তবে নেতৃত্বে বদল ঘটেছে। আগে বালু লুটে নেতৃত্ব দিতেন পলাতক আওয়ামী নেতারা। তাদের পলায়নের সুযোগে নেতৃত্ব পায় এনসিপি’র এক কেন্দ্রীয় নেতার কথিত মামা। তবে এলাকার লোকজনের আন্দোলনের মুখে তিনিও নেতৃত্ব থেকে দূরে চলে যান। বর্তমানে বালু লুটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপি’র প্রভাবশালী তিন নেতা। আর পুরো বিষয়টি দেখভাল করছেন ডলার শাহ নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

সরাসরি তার রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া না গেলেও শুধুমাত্র টাকার জোরে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপি’র এক প্রভাবশালী নেতা। আর তাকে সর্বদাই সহযোগিতা করে থাকেন অহিদুল নামে আরেক ইউনিয়ন বিএনপিনেতা। ফলে দিনরাত চলে বালু লুটের মহোৎসব। এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে চাননা। তবে সাহস করে এগিয়ে এসেছেন এলাকার শতাধিক তরুণ। তারা বালু লুট বন্ধে এলাকায় মানববন্ধনসহ উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এরই প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহাদাত হোসেন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালু পরিবহনে জরিমানাসহ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করেছেন। কিন্তু এতেও কোন কাজ হয়নি বরং দ্বিগুণ উৎসাহে বালু লুটেরারা যমুনেশ্বরী নদীর বালু লুট করেই যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ- স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া যমুনেশ্বরী নদীর বালু লুট করা সম্ভব নয়। কুতুবপুর ইউনিয়নস্থ অরুন্নেছা বাজারের লোকজন জানান, এলাকার জাহাঙ্গীর আলম এবং মোরশেদ আলম এ দু’জন পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে বালু লুট করে যাচ্ছেন। তিনি ডজন খানেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী দিয়ে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বিরতিহীনভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এ বিষয়ে কথা হলে জাহাঙ্গীর আলম দম্ভভরে বলেন, প্রতিদিন পুলিশকে ম্যানেজ করেই বালুর পয়েন্ট চালাতে হয়। এছাড়া আমি তো একাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিনা।

 তিনি বলেন, নাগেরহাট এলাকার হাফিজুর মন্ডল, বেশ ক’জন বিএনপিনেতা বালু লুটের সাথে জড়িত। এমনকি বাগানপাড়ার জামায়াতকর্মী আক্কাছ আলী ও সোনারপাড়ার ডজনখানেক চিহ্নিত বালু লুটেরা আজ কোটিপতি হয়েছেন। তাহলে একাজে আমি জড়িত থাকলে সমস্যা কোথায়। এনিয়ে যা খুশি লিখতে পারেন অসুবিধা নেই।

অপরদিকে নাগেরহাট ব্রিজ ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ডলার, সোহাগ, বিপ্লবসহ কয়েকজন। তারা জানান, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অনেক তো আন্দোলন হল। কিন্তু কি লাভ হয়েছে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহাদাত হোসেন বলেন, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান রয়েছে। যেখানেই বালু উত্তোলন হবে সেখানেই অভিযান চলবে। রাজনৈতিকনেতা কিংবা জনপ্রতিনিধি কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, আমরা নাগের হাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি।অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.