কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে সাধারণ মানুষরা পরেছেন বিপাকে। ঠান্ডার কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি।গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না।আজ সূর্য মাঝে মাঝে উঁকি দিচ্ছে আবার চলে যাচ্ছে।
এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন খড়ে ঘরে থাকি বাতাস রাত ও দিনে হুহু করে ঢুকে মোক কাবু করছে।বউ বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক পেশায় রিক্সা চালক। রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। সাংবাদিকদের সাথে নুরুল হক কথা হলে বলেন সকাল বেলা রিক্সা নিয়ে বের হতে পারি না।এতে আমার সংসার অভাবে কেটে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কলেজ মোড়ের পান ব্যবসায়ী দুলুমিয়া বলেন ঠান্ডার কারণে পান বেচতে পারি না খুব অভাবে দিন কাটাচ্ছি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ২নং কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মিনহাজুল বলেন।
এই ঠান্ডায় হামার চায়ের দোকানে কাজ করতে খুব কষ্ট লাগে। এদিকে এবছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে , সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া ,আমাশয় ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে। এবিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ বুধবার সকাল জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ। কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান ৯ টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা মজুদ আছে।