× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাজশাহী অঞ্চলে মাটিদস্যুদের ফাঁদে কৃষক, ইট ভাটার পেটে যাচ্ছে কৃষি জমির টপসয়েল

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী)

০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৪ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা।

রাজশাহী অঞ্চলে অবাধে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, যে জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কাটা হয়। সেই জমির

এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক দশক সময় লাগবে। স্থানীয়রা বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমরা-চোমরারা চক্র সিন্ডিকেট করে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে।তারা প্রথমে মাঠের মাঝখানের জমির মাটি কাটে।তখন পাশের জমির মালিকেরা মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তানোর, পবা, মোহনপুর, গোদাগাড়ী, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা, বাগমারা ও তাহেরপুর উপজেলার অন্তত ২০০টি ইট ভাটায় ইট তৈরির জন্য ফসলি জমির এই উর্বর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে বাগমারা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইট ভাটাকে জরিমানা ও গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে প্রশাসনের বারবার অভিযানের পরও এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া  ইউনিয়নের (ইউপি) একটি ইট ভাটার এক টেকনিশিয়ান জানান, মাটি ব্যতিত ইট তৈরী করবো কিভাবে। তাই রাতের আঁধারে ফসলি উঁচু জমি থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়া হয়।পবার পারিলা ইউনিয়নের (ইউপি) একটি ইট ভাটার টেকনিশিয়ান কামাল উদ্দিন জানান, একটি ইট তৈরি করতে প্রায় পাঁচ কেজি মাটি লাগে। বছরে একটি ইট ভাটায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ইট উৎপাদন করা হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ মাটি। আর ইট তৈরির জন্য 'টপ সয়েল' বা উপরিভাগের মাটিই সবচেয়ে ভালো।তবে ইট ভাটা মালিকদের দাবি, কৃষকরা স্বেচ্ছায় এই মাটি বিক্রি করেন। 

এদিকে রামচন্দ্রপুর এলাকার ইট ভাটা মালিক বাবু হোসেন বলেন, 'ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা নিজেরাই মাটি বিক্রি করতে আগ্রহী। আমরা মাটি না কিনলে ইট ভাটা বন্ধ হয়ে যাবে, আর তাতে উন্নয়ন কাজ বিঘ্নিত হবে।'

অন্যদিকে মালিকপক্ষ কৃষকদের আগ্রহের কথা বললেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের কৃষক আলতাব উদ্দিন (৬৫) বলেন, 'ইট ভাটার মালিকেরা একসঙ্গে কয়েক বিঘা জমির মাটি কেটে নেয়। এতে পাশের জমিগুলো নিচু হয়ে যায়, ফলে সেচ ও চাষাবাদে সমস্যা হয়। তখন বাধ্য হয়েই আমাদের মাটি বিক্রি করতে হয়।'

বাগমারা উপজেলার কৃষক আবুল সরকার জানান, এক বিঘা জমির টপ সয়েল ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। শুরুতে এটি লাভজনক মনে হলেও পরে টানা কয়েক বছর আর ভালো ফলন পাওয়া যায় না। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ বিপর্যয় ও কৃষিজমির ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। 

রাজশাহী জেলা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নুরুল ইসলাম বলেন, 'টপ সয়েলে জৈব উপাদান ও অণুজীব সবচেয়ে বেশি থাকে। এই স্তরটি সরিয়ে নিলে জমির উর্বরতা ফিরতে এক দশকের বেশি সময় লাগে।'

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এভাবে মাটি কেটে ফেলায় ফসল উৎপাদনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কবির হোসেন জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়াসহ জরিমানা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আক্তার বলেন, 'অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।'

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ জানান, কৃষিজমি থেকে টপ সয়েল কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।#

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.