ছবি: সংবাদ সারাবেলা।
কয়েকদিন ধরে টানা তীব্র শৈতপ্রবাহ চলছে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে তাপমাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দাপুটে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। কয়েক দিনেও দেখা নেই সূর্যের আলোর। তীব্র শীতের প্রভাবে বাড়ছে নিউমোনিয়া,সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া সহ ঠান্ডা জনিত নানা রোগবালাই। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। এমন পরিস্থিতিতে জেলা সদর হাসপাতালে শীত বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হাসাতালে পর্যাপ্ত আসন সংখ্যা না থাকায় দেখা দিয়েছে সংকট। বেড সংকটের কারণে একই বেডে ২ থেকে ৩ জন শিশুকে পর্যন্ত একসাথে গাঁধাগাধি করে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরাতন বিল্ডিংয়ের তৃতীয়তলার শিশু ওয়ার্ডে স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাভিক শিশু ভর্তির দৃশ্য। ওই ওয়ার্ডে ২২টি বেড থাকলেও সেখানে ভর্তি আছে ৪০জন শিশু। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট , খিচুনি, সর্দি ও ডায়রিয়া সহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ রোগী বেশি থাকায় একই বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একই বেডে একাধিক শিশুর পাশাপাশি বেডে অবস্থান করছেন একাধিক অভিভাবকও। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ওয়ার্ডের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর ও সর্দি সহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪১ জন শিশু। যা প্রতিদিনের চেয়ে কিছুটা অস্বাভাবিক।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা রাণী দাস জানান, সর্দি-কাশি সহ শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর সংখ্যক শিশু ভর্তি হয়েছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা দিতেও সমস্যা হয়। আমাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সবকিছু রয়েছে কিন্তু বেডের সংখ্যা কম থাকায় কষ্ট হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকরা বৈকালিক রাউন্ড নিয়মিত দিচ্ছেন।
সদর উপজেলার আপারকাগাবালা ইউনিয়নের পুদীনাপুর গ্রামের পারুল বেগম জ্বর ও খিচুনির কারণে নিজ শিশুকে দুদিন ধরে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়েছেন। তিনি বলেন, জ্বর ও অতিরিক্ত খিচুনির কারণে নানা পরীক্ষার পর ইন্জেকশন দেয়ার পাশাপাশি ঔষধও দেয়া হয়েছে তবুও জ্বর ও খিচুনি কমার লক্ষণ নেই।
রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামের আব্দুল মুঈন চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত জ্বর ও সর্দির কারণে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি, জ্বর কিছুতেই কমছেনা। এছাড়া একই বেডে একাধিক শিশু ভর্তিও কারণে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুর পাশাপাশি বয়স্করাও তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের চতুর্থতলার মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় সেখানে শীত জনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর সংখ্যক বয়স্করা ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: বিনেন্দু ভৌমিক বলেন, হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শীত জনিত রোগীর চিকিৎসার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
