চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের পূর্ববাকখালী ৪নং ওয়ার্ডের শেখের হাট এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারকে সহযোগিতা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১১ জানুয়ারি) উপজেলা প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম স্বশরীরে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে এ সহায়তা তুলে দেন।
এর আগে শনিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব বাকখালী গ্রামের শেখের হাটের উত্তর পাশে আবদুল আলীর বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রবি সওদাগর, দেলোয়ার হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও নুর আলমসহ চারটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, অগ্নিকাণ্ডে তাদের ঘরে থাকা নগদ প্রায় ৬ লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা বলে তারা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে পরিবারপ্রতি ২ বান ঢেউটিন, ১ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২টি কম্বল এবং নগদ ৬ হাজার টাকা করে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পর্যায়ক্রমে আরও সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো ইউনিট ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরও ফায়ার সার্ভিস কেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি? একই সঙ্গে আগুনের প্রকৃত উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির সরকারি নিরূপণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মথিন্দ্র ত্রিপুরা জানান, যে ফোন নম্বর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ দেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বর থেকেই পরবর্তীতে জানানো হয় যে আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে—এ কারণে ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, এমন পরিস্থিতিতেও ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করা উচিত ছিল।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- মোঃ নুর আলম (পিতা: মৃত আলী হোসেন, মাতা: ছবুরা খাতুন), মোঃ রবি (পিতা: নুরুল আবছার, মাতা: শাহানা আক্তার),দেলোয়ার হোসেন (পিতা: নুরুল আবছার, মাতা: শাহানা আক্তার), আনোয়ার হোসেন (পিতা: নুরুল আবছার, মাতা: শাহানা আক্তার)।