দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে সকাল ও সন্ধ্যায় কনকনে শীতে জনজীবন ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৮–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। গত রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল বাতাসের তীব্রতায় শীতের প্রকোপ কমেনি। দিনের অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘে ঢাকা থাকার কারণে সূর্যের উষ্ণতা ঠিকমতো অনুভূত হচ্ছে না। রাতভর নামা কুয়াশা এবং তীব্র হিমেল বাতাসে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন বিশেষভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলার ১৬টি নদ-নদীর তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের কয়েক লাখ মানুষ শীতের তীব্রতায় চরম দুর্ভোগে আছেন। সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর বলেন, আমরা গরীব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। কিন্তু ঠান্ডা যদি না কমে, তাহলে আর কাম কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবার বাঁচাতে হলে কাজ করতেই হবে। তাই ঠান্ডার মধ্যেই কাজ করছি।
স্কুল শিক্ষার্থী নাদিয়া খাতুন জানান, স্কুলে যাওয়ার সময় খুব কষ্ট হয়। শীতে প্রায় সময় রাস্তায় অটো পাওয়া যায় না, তাই আমাদের হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। ভ্যান চালক মফিজুল ইসলাম জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। এই বয়সে আর তেমন কাজ করতে পারছি না, ঠান্ডায় হাত-পা কামড়াচ্ছে। পরিবার নিয়ে জীবন-যাপন করা কঠিন হয়ে গেছে। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান জানান, সরকারিভাবে দুইশত কম্বল পেয়ে বিতরণ করেছি। এ যাবত আর কোনকু বরাদ্দ পাইনি। এদিকে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসকের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ২২ হাজার কম্বল। এর মধ্যে ১৩ হাজার কম্বল এসেছে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দে, ৭ হাজার ৫০০ কম্বল প্রধান উপদেষ্টার বরাদ্দে এবং ১ হাজার ৫০০ কম্বল পূর্বের বরাদ্দ থেকে। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শীতার্তদের মাঝে শীতবস্তু বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।