রাজশাহী শহরের ১ নং ওয়ার্ডের পীরসাহেব পাড়ায় সবুর (২৮) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। সবুরের ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ঐ এলাকার মৃত সামসুল হক খোকা ও মৃত মিনা বেগমের ছোট সন্তান ছিল সবুর। সবুররা তিন ভাই তিন বোন। সে অনেকদিন ধরেই বেকার ছিল। আগে কাজ করতো ওয়াইফাই লাইন সংযোগে। বছরখানেক আগে স্ত্রীর সাথে পারিবারিক ঝামেলার কারনে স্ত্রী-সন্তান সবুরকে একা রেখে স্বামীর গৃহ ত্যাগ করে। ছয় মাস আগে সবুরের সহধর্মীনী তালাকনামা রেজিস্ট্রিযোগে প্রেরণ করেন বলে জানাই সবুরের বোন খুদি ও স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, সবুরের পরিবারে অনেকদিন ধরেই পারিবারিক কলহ-কোন্দল চলছিল। স্ত্রী সন্তান চলে যাবার পর সবুর নিজ বাড়িতে একাই থাকতো। স্ত্রী-সন্তানের গৃহত্যাগ ও ডিভোর্স হবার পর থেকেই তার ভেতর ডিপ্রেশন চলছিল বলে জানায় সবুরের বোন খুদি ও স্থানীয়রা। একাকিত্ব জীবন, বেকারত্ব আর পরিবার-সংসার হারিয়ে তার ভেতর জেঁকে বসে হতাশা। থাকতো ছোট্ট একটা ভাংগাচোড়া ঘরে। কখনো খেতো, আবার কখনো না খেয়েই দিন কাটতো তার। স্থানীয়রা জানায়, পৈত্রিকসূত্রে যেটুকু সম্পদ সবুর পেয়েছিল, সেগুলো বিক্রি করে নষ্ট করেছে অনেক টাকা। অর্থ-সম্পদ আর স্ত্রী-সন্তানহীন জীবনে নিজের ভেতর দানা বাঁধতে থাকা হতাশার মাত্রা একসময় আকাশচুম্বিতে পৌছে। সেই ডিপ্রেশনের সমাপ্তি ঘটে আত্মহত্যার মধ্যদিয়ে বলে মন্তব্য স্থানীয় ও স্বজনদের।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, চার-পাঁচদিন ধরে সবুর নিজ বাড়ি থেকে বের না হবার কারনে একই এলাকায় থাকা বড় বোন খুদি সবুরের খোজ নিতে বাসায়। সামনের মূলফটক বন্ধ থাকা, ঘরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বেড় হওয়া ও অনেক হাক ডাকের পরেও ভেতর থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের সহোযোগিতায় বাড়ির পেছন দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয়দের সহোযোগিতায় কাশিয়াডাঙ্গা থানায় খবর দেয়া হয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১২:০৫ মিনিটে থানার অফিসার্স ইনচার্জ সঙ্গীর ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পর সিআইডি ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে পোস্টমর্টামের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহ পাঠান।
এবিষয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু হয়েছে বলে জানান মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) মোঃ আরমান। মরদেহের সুরহাত করাকালীন সময়ে এমন কোন "ক্লু" পাওয়া গিয়েছে কিনা, যেটা দেখে হত্যার বিষয়টি সন্দেহ করা যায় প্রশ্নের জবাবে আইও আরমান বলেন, তেমন কোন ক্লু পাওয়া জায়নি, সিআইডির ক্রাইম ইউনিট ও পুলিশ সুরতহাল সম্পন্ন ও ঘটনাস্থলের আশেপাশে পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষন শেষে হত্যার মতো কোন আলামত পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকবস্থায় এটাকে আত্মহত্যা বলেই মনে হয়েছে। এখনো পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির পরিবার থেকেও থানায় কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি। পোস্টমর্টেম সম্পন্ন শেষ হলে সেটা হত্যা না আত্মহত্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, সুরতহাল সম্পন্ন ও লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, সবুর নিজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে চার-পাঁচদিন আগে