× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অপরাধচক্র সক্রিয়: নির্মূল ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টায় আইন শৃংখলা বাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার:

১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ এএম

নরসিংদী জেলায় অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। পাশাপাশি খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, চোরাগোপ্তা হামলা, গুলি, বিস্ফোরণ, মব সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড জেলায় বেড়েই চলেছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কায় জেলাবাসী। লুট হওয়া অস্ত্রসহ অবৈধ সব অস্ত্র ভোটের আগে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 


গত এক বছরে জেলায় ৯৪ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনায় ৯৪টি হত্যা মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামী রয়েছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া গত এক বছরে জেলায় ১৭টি ডাকাতি, ১৮৪টি চুরি, ৮৫টি ধর্ষণ এবং ৪৩টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। 


অপর দিকে গত দেড় বছরেও উদ্ধার হয়নি নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে ২৭ টি অগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ হাজার ৩’শ ৩৬ রাউন্ড গুলি। রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় ব্যবহার হচ্ছে এসব অস্ত্র ও গুলি। ঘটেছে একাধিক হত্যাকান্ড এবং বন্ধুক যুদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০০ রাউন্ড গুলি। এসব ঘটনায় ২৭টি নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৬ জন। 


জানা গেছে, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। সেই সময় কারাগারে থাকা ৮২৬ কয়েদির সবাই চলে যায়। কারাগার ভাঙচুরের সময় লুট করা হয় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আট হাজার ১৫ রাউন্ড গুলি। পরে দফায় দফায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চলে যাওয়া বন্দীদের মধ্যে ৪৮৬ জন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে এবং ১৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে দেড় বছরে ৫৮টি উদ্ধার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়নি ৬ হাজার ৩’শ ৩৬ রাউন্ড গুলি। লুটহওয়া এসব অস্ত্রের মধ্যে চায়না ও বিডি রাইফেল এবং বোর শটগান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সচেতন মহল বলছে, ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ছিনতাই, দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারই এর মূল কারণ। একসময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হলেও এখন ছিনতাই, অস্ত্র-মাদক, জমিসংক্রান্ত বিরোধ, ইন্টারনেট-ডিশ ও বালু ব্যবসাসহ নানা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটছে।


এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় অপরাধীদের গুলিতে নিহত হন। তাকে গুলিকরা সে অস্ত্রটিও গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে নরসিংদী শহর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, একটি খেলনা পিস্তল ও ৪১ রাউন্ড গুলি সেদিন উদ্ধার করা হয়।


রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ী ও সায়দাবাদ গ্রামে অপরাধীরা প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরা ফেরা করছে। এছাড়া অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রহাতে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখাগেছে রায়পুরা উপজেলার অপরাধপ্রবণ এলাকা বাঁশগাড়ী ও সায়দাবাদ গ্রামের দুই চিহ্নত সন্ত্রাসীর হাতে তিনটি রাইফেল। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মনে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। ভয়ে এলাকার মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছে।


জনসাধারণের মনে প্রশ্ন- তবে কি অস্ত্রের হাট নরসিংদী? এখানেই কি অস্ত্র কেনা-বেচা হয়? নরসিংদীতে এত অস্ত্র আসছে কোথা থেকে। এছাড়া প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চলছে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, হামলা এবং প্রকাশ্যে গোলাগুলি। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, অপরাধীদের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। 


অভিজ্ঞজনরা বলছেন, স্থানীয় ও জাতীয় প্রায় প্রতি নির্বাচনেই নরসিংদী সদর ও রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল হয়ে উঠে অশান্ত, বাড়ে অস্ত্রের ব্যবহার। লুট হওয়া অস্ত্রসহ জেলার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের মনে দেখা দিয়েছে নানা রকম ভীতি।


আনিকা খানম নামে একজন সমাজ সেবীকা বলেন, জেলাজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের যে আতঙ্ক সেটাতো জনমনে রয়েছেই। নতুন করে কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অনেকগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি। নির্বাচনকে ঘিরে এসব অস্ত্র ও গুলি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের আগেই অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত খুন হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেককেই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এতে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। 


সুজন সুশাসনের জন্য নাগরিক এর নরসিংদী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিভিন্ন হাত ঘুরে অপরাধীদের হাতে ছড়িয়ে চিটিয়ে আছে বলে বিভিন্নভাবে আমরা শুনতেছি। আর এসব অস্ত্র এখন ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও আমরা মনে করছি। নইলে এতো অস্ত্রের ঝনঝনানি কেন? লুট হওয়া অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হলে নির্বাচন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। চরাঞ্চলে এখন শুধু আগের মত টেঁটা নিয়ে মারামারি হচ্ছে না। এসব সংঘাতে এখন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটছে অহরহ। আগে যেখানে ব্যবহার হতো টেটা, বল্লম ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র, সেখানে এখন ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শুরু করে ককটেলসহ বিভিন্ন বোমা।


সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নরসিংদী পরিদর্শনে এসে নরসিংদীর চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ দেয়ার পর আইন শৃংখলাবাহিনীর যৌথ অভিযানে কিছুসংখ্যক অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


এছাড়া নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি খায়রুল কবির খোকন  ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এর নেতৃত্বে নরসিংদী সদরের চরাঞ্চল আলোকবালীতে একটি শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নতুন করে কোনো সংঘাতের সৃষ্টি হয়নি। জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। 


তবে নির্বাচনের আগেই এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক। তিনি বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু গোলাবারুদও উদ্ধার হয়েছে। বাকি লুটহওয়া অস্ত্রসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ নির্মূলে আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এসব অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত অভিযান পরিচালান করে মাদক উদ্ধার ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, জেলায় আইন শৃংখলা অবনতি হওয়ার সুযোগ নেই, বরং উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া আরো ভাল করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। সামনে যে নির্বাচন রয়েছে, সে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয় সে বিষয়েও জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। 

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.