সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে যমুনা টিভির সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি আকরামুল ইসলাম এর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ্তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হুমকি এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আকরামুল ইসলাম জানান, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের মূল্য ২৭ টাকা হলেও আশাশুনি উপজেলার কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজের মালিক মাজেদ গাজি অবৈধভাবে প্রতি বস্তা সার ৩৬ টাকায় বিক্রি করছিলেন। এ অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি২০২৬) তিনি তার ক্যামেরাম্যানসহ কুল্লা ইউনিয়নে সরেজমিন অনুসন্ধানে যান। এ সময় অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী মাজেদ গাজি, তার ছেলে আনোয়ার এবং তাদের সহযোগীরা অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যমুনা টিভির ক্যামেরা ও লোগো ভাঙচুর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
কুল্লা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, এর আগেও নকল বীজ বিক্রির দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাজেদ গাজিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাতক্ষীরাসহ সারাদেশের সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে দমন করার অপচেষ্টা এবং অপরাধীদের দুঃসাহসের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।
সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত মাজেদ গাজিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।