ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে উচখিলা বাজার এলাকায় শান্তি ভঙ্গের কাল্পনিক অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী মোঃ জালাল মিয়া কর্তৃক দায়ের করা ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারার এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। এমনকি মামলার সাক্ষী তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরাও জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না।
আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি সকালে উচখিলা বাজারে যাওয়ার পথে বিবাদীরা জালাল মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই প্রেক্ষিতে তিনি ময়মনসিংহ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈশ্বরগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিনে ঈশ্বরগঞ্জের হরিপুর ও উচখিলা এলাকায় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি তারিখে অভিযোগকারী যে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন, তেমন কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি। স্থানীয়রা জানান, ২১ জনকে আসামি করে এই মামলা দেওয়া হয়েছে মূলত এলাকার মানুষকে হয়রানি ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে মামলার সাক্ষী তালিকায় থাকা আঃ হান্নানেরসহ আরো কয়েকজন সাক্ষীর সাথে কথা হলে তারা হতবাক হয়ে জানান, তারা কোনো ঘটনার সাক্ষী হননি এবং আদালত থেকে নোটিশ আসার আগ পর্যন্ত তারা জানতেনই না যে তাদের সাক্ষী বানানো হয়েছে। জনৈক সাক্ষী বলেন, "আমার নাম কীভাবে এই তালিকায় আসলো তা আমার জানা নেই। আমি কোনো হুমকির ঘটনা দেখিনি।"
মামলার বিবাদী পক্ষের দাবি, জালাল মিয়ার সাথে জমিজমা বা পূর্ব বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু পুরো এলাকার ২১ জন মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো আইনের অপপ্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়। তারা বলেন, "আমরা দিনমজুর ও সাধারণ ব্যবসায়ী। আমাদের এভাবে হয়রানি করার ফলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি এবং সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছি।"