ছবি: সংবাদ সারাবেলা
ঝিনাইদহ শহরের ব্যস্ত পাগলাকানাই মোড়ে সড়ক দখল ও দোকান সম্প্রসারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় জনমনে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সতর্কতার ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও বেশ কিছু দখলদার দোকান ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা আগের মতোই বহাল রয়েছে।
জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের কথা বলা হলেও রাফসান স্টোর, নাসির হোটেল, মামুন হোটেল ও গ্রামবাংলা ষ্ট্যান্ডের পাশের দোকানগুলো এখনো সড়কের জায়গা দখল করে বহাল রয়েছে যা যানজট ও জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনিক নির্দেশনা অমান্য করে এখনো সড়ক দখলে রেখেছে রাফসান স্টোর। সড়কের ওপর টিনশেডযুক্ত বর্ধিত অংশ এখনো অপসারণ করা হয়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহ আলম নৌবাহিনীর পেটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং এ কারণেই প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে দখল বজায় রেখেছেন।
অন্যদিকে মৌখিক নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কা না করেই নাসির হোটেল এখনো প্রকাশ্যভাবে সড়কের সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সতর্কতার পর একবারের জন্যও অবৈধ বর্ধিত অংশ অপসারণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
একইভাবে মামুন হোটেলের মালিক আংশিকভাবে টিনশেড সরালেও ফের সড়কের জায়গা দখল করে খুঁটি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি সায়াদাতিয়া জামে মসজিদ সংলগ্ন সারি সারি ভ্রাম্যমাণ ফলের দোকানও নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সতর্কবার্তা প্রদান আর বাস্তব উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,
“সংবাদ প্রকাশের পর কর্মকর্তারা এসে নির্দেশনা দেবার পরও দোকান ভাঙার কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো দখলদাররা বলছে কেউ কিছু করতে পারবে না।”
অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন,
“সতর্ক করলে কী হবে? কিছু দোকান তো এখনো রাস্তার ওপরই। যানজট কমেনি, বরং বেড়েছে।”
এ বিষয়ে আবারও ঝিনাইদহ পৌরসভার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,
“জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেটসহ আমরা সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেছি। খুব শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের বলছেন, পূর্বেও এমন আশ্বাস বহুবার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কার্যকর ফল হয়নি। নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি না থাকলে পাগলাকানাই মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনভোগান্তি আরও ভয়াবহ আকার নেবে। তারা দ্রুত প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর
যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220
ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।
© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
