কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা আর চারদিকে নদীবেষ্টিত নিঃসঙ্গতা—সব মিলিয়ে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের জীবন যেন প্রতিদিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। শহরের তুলনায় বহুগুণ বেশি কষ্টে দিন কাটাচ্ছে নদীঘেরা এসব এলাকার মানুষ।
সীমিত আয়ের কারণে অনেকের পক্ষেই শীত নিবারণের ন্যূনতম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয় না। সরকারি সহায়তা খুবই অপ্রতুল। ফলে অধিকাংশ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কম্বল। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর পর্যবেক্ষক ফজলে রহমান বলেন, রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দুপুর ১২টার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এরপর তাপমাত্রা আবার কমতে থাকে। মূলত, সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত তাপমাত্রা কম থাকে। কুয়াশা এবং হিমেল হাওয়ার কারণে প্রচন্ড ঠান্ডা অনুভূত হয়। এ অবস্থা চলবে আরও কয়েকদিন।
কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু সাংবাদিকদের বলেন, চরের মানুষ বছরের পর বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার স্বীকার। শীত, বন্যা কিংবা খাদ্যসংকট—সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে চরাঞ্চলের মানুষ। আমরা কম্বল দিচ্ছি, কিন্তু এটি স্থায়ী সমাধান নয়। চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় রয়েছে, ঠিক সেভাবেই দেশের চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অবিলম্বে একটি চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন। এটি কেবল একটি দাবি নয়, এটি মানবিক অধিকার। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি খাইরুল আনম সাংবাদিকদের বলেন, চরাঞ্চলের সমস্যাগুলো সাধারণ উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে চরবাসীর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন। আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের মাধ্যমেই এসব সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।জেলা প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমে ২৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ৪০ লাখ টাকার কম্বল কেনার প্রস্তুতি চলছে। পরে পর্যায়ক্রমে এসব কম্বল বিতরণ করা হবে।