× প্রচ্ছদ বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতি খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফ স্টাইল ভিডিও সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ড অং‌শে অ‌বৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, নীরব প্রশাসন

মোহাম্মদ জাম‌শেদ আলম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতি‌নি‌ধি :

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

ছবি: সংবাদ সারাবেলা

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন। অথচ জাতীয় অর্থনীতির এই প্রাণসঞ্চালক মহাসড়কেই প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত ও সিএনজি অটোরিকশা—যা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে সাধারণ যাত্রী ও যানবাহন চালকদের জীবন।

সরকারি নির্দেশনা ও সড়ক পরিবহন আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—হাইওয়ে বা জাতীয় মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি-হুইলার কিংবা অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এসব অবৈধ যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।

অনেক সময় যাত্রী ওঠানামার জন্য মহাসড়কের মাঝখানেই হঠাৎ থেমে যাচ্ছে অটোরিকশা। এতে দ্রুতগতির যানবাহনকে আকস্মিক ব্রেক করতে হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট এবং প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে কয়েকগুণ

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত ও সিএনজি চা‌লিত অটোরিকশার গতি ও ব্রেকিং সিস্টেম দুর্বল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো নিরাপত্তা মানদণ্ড মানা হয় না। দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে একই সড়কে চলাচল করায় সংঘর্ষের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংঘটিত একাধিক দুর্ঘটনার পেছনে এসব অবৈধ অটোরিকশার ভূমিকা থাকার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবুও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতায় হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসন, 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই অবৈধ যান চলাচলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান পরিচালিত হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।


এদিকে মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত সার্ভিস লেন ও বিকল্প সড়ক না থাকায় ছোট যানবাহনগুলো বাধ্য হয়েই মূল মহাসড়কে উঠে আসছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি।

সচেতন মহলের মতে, এই সংকট নিরসনে পরিকল্পিত সার্ভিস লেন নির্মাণ, কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু এবং ছোট যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট লেন ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না থাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল এসব অবৈধ যান চলাচলকে নীরবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আইন কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ? নাকি জননিরাপত্তার চেয়ে অন্য কোনো স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে?


যাত্রী ও চালকদের ক্ষোভ

মহাসড়কে চলাচলকারী বাস ও ট্রাক চালকদের ভাষ্য, হঠাৎ সামনে অটোরিকশা চলে আসায় বহুবার দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি থামাতে হয়েছে। এতে নিজের জীবন যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি যাত্রীদের মাঝেও সৃষ্টি হচ্ছে চরম আতঙ্ক।

একজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—

“মহাসড়কে অটোরিকশা দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে। কখন যে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ প্রশাসন যেন চোখ বন্ধ করে আছে।”


সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি—

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে হবে

নিয়মিত ও দৃশ্যমান যৌথ অভিযান জোরদার করতে হবে

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে

বিকল্প সড়ক ও সার্ভিস লেন নির্মানসহ ব্যবহারে এসব যানবাহনকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে


ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক কোনো পরীক্ষাগার নয়, যেখানে প্রতিদিন মানুষ জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেবে। প্রশাসনের নীরবতা ভেঙে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির দায় এড়ানো যাবে না।


জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

Sangbad Sarabela

সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী আবু জাফর

যোগাযোগ: । [email protected] । বিজ্ঞাপন ও বার্তা সম্পাদক: 01894944220

ঠিকানা: বার্তা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ : বাড়ি নম্বর-২৩৪, খাইরুন্নেসা ম্যানশন, কাঁটাবন, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা-১২০৫।

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 Sangbad Sarabela All Rights Reserved.