নীলফামারীতে কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি। বসতবাড়ির পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় বর্ষা এলেই এলাকাটি পরিণত হয় জলাবদ্ধতায়, চলাফেরা তো দূরের কথা স্বাভাবিক জীবনযাপনও হয়ে ওঠে কষ্টসাধ্য।
জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই ছাড়ারপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি হিন্দু পরিবারের শতাধিক মানুষ। সম্প্রতি কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখলেও, ড্রেন নির্মাণ না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে—এই আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই বসতঘর, উঠান ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। কাদাপানি মাড়িয়ে প্রতিদিনের কাজকর্ম চালানো যেন এক নীরব সংগ্রাম।
এলাকাবাসী শ্রী মধু চন্দ্র রায় আবেগভরে বলেন,“আমরা বছরের পর বছর এই সমস্যায় ভুগছি। এখন যেহেতু রাস্তা পাকাকরণ হচ্ছে, তাই অনুরোধ—রাস্তার সঙ্গে যেন পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেনও নির্মাণ করা হয়। না হলে আমাদের কষ্টের শেষ থাকবে না।”
ওই এলাকার বাসিন্দা শ্রী শরৎচন্দ্র রায়, শুনীল চন্দ্র রায়, মতিনাল চন্দ্র ও মধু সুদন রায়সহ অন্যান্যরা বলেন, শুধু বর্ষাকালেই নয়, সারা বছরই বসতবাড়ির পানি বের করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাঁরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান,আবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সিংদই ছাড়ারপাড়ের মানুষ এখন শুধু একটি পাকা রাস্তা নয়, মানবিক মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার জন্য একটি ড্রেনের অপেক্ষায়—যা তাদের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারে।