চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে অবাধে পুকুর খনন ও মাটি কাটার মহোৎসব। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সড়ক ও অবকাঠামো। অথচ এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের পুশকুনি নামক স্থানে রাত হলেই শুরু হচ্ছে মাটি কাটার লীলা খেলা। কৃষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন কি রাতে ঘুমায়? তারা ঠিকই জানে তারাই হয়তো বা নির্দেশ দিয়েছে রাতে কাটার। এভাবে চলল আশেপাশের তিন ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধ করছি তারা যেন তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,চৌডালা ইউনিয়নের চুটু দফাদার ও তার ছেলে ডালিম প্রশাসনকে হাতে রেখেই এরা মাটি কাটছে, না হলে এভাবে দিনে-রাতে কাটতে পারে? ট্রাকের শব্দে রাতে ঘুমাতে পারি না। সরকারের কোটি কোটি টাকার রাস্তা নষ্ট করছে। এই মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায়, আর সেই ভাটার কালো ধোঁয়ায় আমাদের ফসল, বাতাস—সব বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা চরম ঝুঁকির মধ্যে আছি।”
আরেক বাসিন্দা জানান,
“আমার জমির পাশেই পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে আমার জমি নিচু হয়ে গেছে। বন্যা এলে জমি ডুবে যাবে। আমি এখন কী করবো?”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সবকিছু জানলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন অবৈধ মাটি কাটার পরিমাণ বাড়ছে এবং পরিবেশ ও কৃষি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।