জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এক রক্তক্ষয়ী হামলায় নারীসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিলা আক্তার নামে এক নারী বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— আনোয়ার হোসেন আন্না, আমিনুর ইসলাম, শুকুর মিয়া, মমিন মিয়া, বিপ্লব মিয়া, চাইনা আক্তার, লাইলা আক্তার, মাছুরা বেগম, রেহেনা পারভিন, লিপি বেগম ও রহিমা আক্তার।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের মধ্য তারতাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাতেই থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী শিলা আক্তার ও অভিযুক্তরা একই বাড়ির ভিন্ন ভিন্ন অংশে বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন বিকেলে আনোয়ার হোসেন আন্নার নির্দেশে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিলা আক্তারের বাড়ির আঙিনায় অনধিকার প্রবেশ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আনোয়ার হোসেন আন্না ও আমিনুর ইসলাম শিলা আক্তারকে ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে লোহার রামদা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাহ আলম মিয়া (৬০) নামের এক ব্যক্তি হামলার শিকার হন এবং তার মাথায় গভীর কাটা জখম হয়।
এছাড়া হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা শিলা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের পাটি চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকা। একই সঙ্গে ঘরে থাকা নগদ এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা, বাড়ি নির্মাণের জন্য রাখা প্রায় পাঁচ হাজার ইট লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। টিনের বেড়া ভাঙচুর করে আনুমানিক বিশ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ঘটনায় জোসনি আক্তার (৪০), শিরিনা বেগম (৫০)সহ আরও কয়েকজন নারী আহত হন। অভিযোগে মারধর, শ্লীলতাহানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ ও পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান বাদী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শুকুর মিয়া দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। পরদিন তিনি জানতে পারেন, কোনো হামলা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাদী পক্ষ রাস্তা অবরুদ্ধ করায় বিবাদীরা রাস্তার মাঝখান থেকে একটি বেড়া খুলে সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”